প্রযুক্তির ফাঁদ থেকে মুক্ত থাকাই সাংবাদিকদের বড় চ্যালেঞ্জ: ফরিদা ইয়াসমিন

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৩, ০৭:১৮ পিএম

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, একজন সাংবাদিককে সবসময় পারিপার্শ্বিক সমস্ত বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখতে হয়। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির উন্নয়ন সাংবাদিকতায় যেমন সুযোগ সৃষ্টি করেছে তেমনি চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তির ক্ষতিকর ফাঁদ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা সাংবাদিকদের বড় চ্যালেঞ্জ।

মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) বেলা সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৪৬ ব্যাচের অগ্রায়ণ ও ৫১ ব্যাচের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, গণমানুষের জন্য কাজ করাই হলো সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নিতে হলে সাংবাদিকতাকে ভালোবাসতে হবে। পেশার প্রতি ভালোবাসা থাকলেই সাংবাদিকতা করা সম্ভব। সাংবাদিকতা নেশার মতো আটকে ধরে রাখে সাংবাদিকদের। একজন শিক্ষার্থীকে ছাত্রজীবনেই নিজের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে নিতে হবে সে সাংবাদিক হবে নাকি অন্য কোনো পেশায় নিযুক্ত হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির। তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী সাংবাদিকতায় পড়ে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চায় না। সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হলেও মহৎ পেশা। সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার আগে কেন নেবেন সেটা নির্ধারণ করতে হবে। সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা নিয়ে মানুষের মাঝে অনেক ভুল ধারণা আছে। যেমন, সাংবাদিকদের ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করতে হয়। কিন্তু আমি বলব এগুলো ভ্রান্ত ধারণা। সাংবাদিক হিসেবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপনি কতটুকু কাজ করতে পারছেন সেটাই বড় কথা। প্রযুক্তি সাংবাদিকতায় চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ দুটোই সৃষ্টি করেছে। সুযোগ হলো সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রযুক্তির সহায়তায় একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারেন। আর চ্যালেঞ্জ বলতে গেলে প্রযুক্তির উন্নয়নেট ফলে সামাজিক বিভিন্ন মাধ্যমে সাধারণ জনগন বা ব্লগাররা চাইলেই ভুল তথ্য সহজে ছড়িয়ে দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক মাধ্যম যে সাংবাদিকদের গুরুত্ব কমিয়ে দিয়েছে এমনটা নয়, বরং সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করে জনগণের আস্থা তৈরি করাই একজন সাংবদিকের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের উচিত প্রযুক্তির সহায়তায় সৃনশীল কাজ শিখে নিজেকে যোগ্যরূপে গড়ে তোলা। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।

সমাপনী বক্তব্যে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সভাপতি রাকিব আহমেদ বলেন, প্রতিবছর আমরা চেষ্টা করি সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদেরকে দেশের প্রসিদ্ধ সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার। তারই ধারাবাহিকতা এ বছরও আমাদের এই আয়োজন। নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাই এবং প্রবীণদের জন্য শুভকামনা, তোমরা তোমাদের জীবনের লক্ষ্য অর্জনে সফল হও।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক এবং সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত