পাকিস্তানের মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী ইমান জয়নব মাজারি-হাজিরকে জামিনে মুক্তির পরপরই ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন পেয়ে মুক্তির পর রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে বের হতেই ইমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, পুলিশ বলছে ইমানকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট শেষ রাতের দিকে ইমানকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরদিন সকালে তাকে কোর্টে হাজির করা হয়। ওই ঘটনায় ইমানের মা ও ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সাবেক নেতা শিরিন মাজারি বলেন, ‘সাদা পোশাক পরা কয়েকজন পুরুষ এবং কয়েকজন নারী আমাদের দরজা ভেঙে আমার মেয়েকে নিয়ে গেছে। আমি তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম আমার মেয়েকে কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারা পুরো বাড়ি তছনছ করেছে। তারা আমার মেয়েকে ঘুমের পোশাক পরা অবস্থায় নিয়ে গেছে। কাপড় পাল্টানোর সময় পর্যন্ত দেয়নি। তারা তাকে টেনে নিয়ে গিয়েছে।’
ইমানের বিরুদ্ধে এসব পদক্ষেপ আসে একটি সমাবেশে তার অংশগ্রহণ ও বক্তব্যের পর। গত ১৮ আগস্ট এই মানবাধিকারকর্মী পাকিস্তানের সামাজিক সংগঠন পশতুন তাহাফফুজ মুভমেন্ট আয়োজিত এক সমাবেশে অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় সেনাবাহিনীর তীব্র সমালোচনা করেন ইমান। তিনি বলেছিলেন, ‘আপনাদের থামিয়ে দেওয়া হবে। যেন আপনি কোনো সন্ত্রাসী। অথচ তালেবানরা দেশ কবজা করে বসে আছে। সত্যিকারের সন্ত্রাসীরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদরদপ্তরে বসে আছে।’
এই বক্তব্যের পর রাতের আঁধারে এক কাপড়ে তাকে বাড়ি থেকে ধরে আনা হয়। এ ঘটনায় পাকিস্তানজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ইমানের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে প্রখ্যাত সাংবাদিক সিরিল আলমেইডা বিবিসিকে বলেন, ‘গত ৯ মে ইমরানকে প্রথমবার আটকের পর পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছিল। এখন পাকিস্তান সেনাবাহিনী সতর্ক, তারা এখন আর কেবল ইমরান খানের পিটিআইয়ের দিকেই লক্ষ্য রাখছে এমন নয়, বরং সমাজের পৃথক পৃথক অংশের দিকেও তাদের নজর পড়েছে।’
বিবিসি বলছে, জামিনের পর ইমানকে ফের কেন গ্রেপ্তার করা হলো তার সুস্পষ্ট কারণ জানা যায়নি। ইমানের সঙ্গে থাকাদেরও পুলিশ কী অভিযোগে তাকে ফের আটক করা হলো তা জানায়নি। শুধু বলেছে আরেকটি থানায় ইমানের নামে নাকি কেউ মামলা করেছে।
অবশ্য পিটিআই কর্মীদের যেকোনো অভিযোগে আটকের পর সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ফের গ্রেপ্তারের ঘটনা নতুন নয় বলে জানায় বিবিসি।
