প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে বিদ্যুৎ, জ¦ালানি, আইসিটি এবং অবকাঠামো খাতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর বৃহত্তর বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস মার্কিন কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি, আইসিটি, অবকাঠামো, হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিকের মতো সম্ভাব্য ও উৎপাদনশীল খাতে আরও বেশি সুবিধা নেবে এবং বিনিয়োগ করবে।’ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ‘ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’-এর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে দেওয়া প্রারম্ভিক ভাষণে এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্মুক্ত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ নীতি রয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব পারস্পরিকভাবে উভয় দেশের জন্য সহায়ক এবং দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস অত্যন্ত গভীরে প্রোথিত। স্বাধীনতার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদারদের একজন এবং আমাদের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে অবদান রেখে চলছে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের জন্য এফডিআই এবং রপ্তানি বাজারের একক বৃহত্তম উৎস যুক্তরাষ্ট্র এর প্রবৃদ্ধির গতিপথকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।’
তিনি বলেন, তার সরকার নাগরিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধির কৌশল অনুসরণ করছে। এই টেকসই কৌশল বিশ্ব অর্থনীতিবিদ ও সংস্থাগুলো স্বীকার করেছে।
তারা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি সম্ভাবনা থাকায় আমাদের ব্যবসা এবং বিনিয়োগ নীতিকে সহজ করতে এবং এটিকে আপনাদের জন্য সহায়ক করতে আমি সর্বোত্তম সম্ভাব্য নীতি কাঠামোর বিষয়ে আশ্বস্ত করতে চাই।’
ইউএস-বাংলাদেশ এনার্জি টাস্কফোর্স এবং ইউএস-বাংলাদেশ ডিজিটাল ইকোনমি টাস্কফোর্স তাদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে উভয় দেশের কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা আরও গভীর করতে অবদান রাখবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় পরিবেশ নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে একটি উদারীকৃত শিল্পনীতি, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, ১০০ শতাংশ বিদেশি মালিকানার জন্য ভাতা, সহজ প্রস্থান নীতি, ১৫ বছরের কর অব্যাহতি, আমদানি করা যন্ত্রপাতির জন্য ভ্যাট অব্যাহতি, সুগমিত পরিষেবা এবং আরও অনেক কিছু।’
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর জ¦ালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, দক্ষিণ এশিয়া ইউএস চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ, এক্সেলারেট এনার্জি (বোর্ড চেয়ার এবং মিশনপ্রধান) সভাপতি, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভেন কোবোস অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
