দেশে কেউ ৬০ বিঘার বেশি জমির মালিক হতে পারবে না। তিন ফসলি জমিতে কোনো স্থাপনাও করা যাবে না। দুই ফসলি জমিতেও স্থাপনা নির্মাণে নিরুৎসাহিত করা হবে।
ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলের ঢাকা চেম্বার ভবনে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন। ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ ও দেশের টেকসই নগরায়ণবিষয়ক এই সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আগামী সংসদ অধিবেশনে ভূমি অপরাধ আইন, ভূমি পুনর্গঠন, সংস্কারসহ আমি তিনটা বিল উপস্থাপন করব। আশা করি, অক্টোবরে এসব পাস করাতে পারব।’
তিন ফসলি জমিতে স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার নির্দেশনা আছে, তিন ফসলি জমিতে কোনো স্থাপনা আমরা করতে দেব না। তিন ফসলি জমিতে স্থাপনার এটার (আইন পাস হলে) মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাবে। আর দুই ফসলি জমিতে স্থাপনা করার ক্ষেত্রেও নিরুৎসাহিত করছি।’
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘কারও জমি ৬০ বিঘার ওপরে গেলে আমাদের মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে। এ ছাড়া পারবে না। যুক্তি দেখাতে হবে, কী কারণে ৬০ বিঘার বেশি।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে নগরায়ণ এমনভাবে গড়ে উঠেছে, যেখানে আমাদের জিডিপির ৬৫ শতাংশ আসছে শহরাঞ্চল থেকে।
তিনি বলেন, ঢাকাকেন্দ্রিক নগরায়ণের জন্য আমরা যেভাবে যানজট, পানিদূষণ, বায়ুদূষণ প্রভৃতি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি, সেই সঙ্গে আমাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে জ্বালানি খরচ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি, এমতাবস্থায় ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই। ঢাকার বাইরে বসবাসকারীদের জন্য ট্যাক্স হলিডে, সুলভমূল্যে ইউটিলিটি পরিষেবা প্রদানের পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের আহ্বান জানান ব্যারিস্টার সামির সাত্তার।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন বলেন, ড্যাপের পুরোপুরি সংশোধন না করে, ব্যবসায়ীদের যেন হয়রানি না করা হয়, সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর নগর আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্য দেশের জলবায়ু, নদী মারাত্মকভাবে দূষণ করছে, যার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সহসভাপতি এবং ভিত্তি স্থপতিদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্থপতি ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩৩ শতাংশ লোক নগরে বাস করে এবং ঢাকা মহানগরীতে প্রতি বছর নতুন করে ৫ লাখ লোক যোগ হচ্ছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্থপতি অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির বলেন, ঢাকায় মানুষের আসার প্রবণতা হ্রাসে রাজধানীর বাইরে জনগণের জীবনযাত্রা পরিচালনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা অতি দ্রুত কৃষিজমি হারিয়ে ফেলছি, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় এবং খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষিজমি সুরক্ষায় আমাদের আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ খাতের প্রতিনিধিরা যানজট নিরসনে বহুতলের পার্কিং সুবিধা বৃদ্ধি, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সংখ্যা বাড়ানো, বুড়িগঙ্গা নদীর নাব্য ও ব্যবহার উপযোগিতা বৃদ্ধি, পুরান ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জে শিল্প-কারখানা স্থানান্তরে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রণোদনা সহায়তা প্রদানের সুপারিশ করা হয়।
