আজ ৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ফিজিওথেরাপি দিবস। এবারের ফিজিওথেরাপি দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় বাত ব্যথা ও অস্থিসন্ধির প্রদাহে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার গুরুত্ব। বাত ব্যথাসহ বিভিন্ন রকম আর্থ্রাইটিস বা বিভিন্ন জটিল রোগের পরবর্তী কন্ডিশনে যেমন কব্জি পরবর্তী জয়েন পেইন, চিকুনগুনিয়া পরবর্তী জয়েন পেন ও দীর্ঘদিনের সমাজের পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধীদের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার গুরুত্ব অপরিসীম।
মানবদেহের ওজন বহন করা যে কয়টি জয়েন বা অস্থিসন্ধি রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাঁটু। দেশে হাঁটু ব্যথার প্রধানত বয়স্ক ব্যক্তিদের বেশি সমস্যা দেখা দেয়। তবে যেকোনো বয়সেই হাঁটু ব্যথা হতে পারে। হাঁটু ব্যথাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। হাঁটু ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করা গেলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্যথা ভালো হয়ে যায়।
কারণ : হাঁটু ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে, এর মধ্যে অন্যতম বয়স্কজনিত অস্থিসন্ধির ক্ষয় বা অস্ট্রিয়াথ্রাইটিস। এ ছাড়া হাঁটুর লিগামেন্টে আঘাত পাওয়া অস্থিসন্ধির মাঝে দূরত্ব কমে যাওয়া। অতিরিক্ত শারীরিক ওজন-ব্যথাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে সাধারণত পুরুষের তুলনায় নারীদের পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে।
লক্ষণ : হাঁটু ব্যথার পাশাপাশি রোগীর হাঁটু ক্ষয় হয়ে যাওয়া, হাঁটুর সন্ধি শক্ত হয়ে যাওয়া, হাঁটু লালবর্ণ ধারণ করা, হাঁটুতে গরম অনুভব করা, হাঁটু বাজ করতে সমস্যা হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ সময় হাঁটাচলা বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে সমস্যা হয়। চলাফেরার সময় হাঁটু ভাঁজ করলে শক্ত হতে পারে। ব্যথা অনুভব হতে পারে, হাঁটুর শক্তি কমে যেতে পারে, ফলে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হয়ে থাকে।
চিকিৎসা পদ্ধতি : হাঁটু ব্যথায় বরফ কিংবা গরম পানির সেক আরাম দিতে পারে, তবে কখন ও কোন প্রক্রিয়ায় সেক দেবেন সেটার জন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দিতে হবে। আঘাতের কারণে হাঁটুতে ব্যথা হয়, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে বরফ ঠা-া সেক আরাম দিতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যথা বা আর্থ্রাইটিজনিত ব্যথায় গরম পানির সেক সবচেয়ে কার্যকার মাধ্যম। হাঁটু ব্যাথার রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ব্যথা নাশক মেডিসিন খেয়ে পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত কিছু ব্যায়ামের সিদ্ধান্ত দেবেন।
