মরক্কোয় ভূমিকম্প

ধূলিসাৎ গ্রামগুলো বিচ্ছিন্ন মৃত্যুপুরী

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:২৫ এএম

সাধারণত ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় শহরাঞ্চলে, যেহেতু দালানধসের ঘটনা সেখানেই বেশি হয়। কিন্তু মরক্কোয় গত শুক্রবার আঘাতহানা ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে গ্রামগুলোর। কয়েকটি গ্রাম যেন মাটিতে মিশে গেছে, প্রাণহানি এবং নিখোঁজের সংখ্যাও বেশি। ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে উত্তর আফ্রিকান দেশটির বহু গ্রাম। তেমনই একটির নাম তাফেঘাঘতে। অ্যাটলাস পর্বতমালা-সংলগ্ন গ্রামটি পরিদর্শনে গেলে বিবিসির সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম যে বাসিন্দার দেখা হয়, তিনি বলেন, ‘এই গ্রামের মানুষজন হয় হাসপাতালে, না হয় মৃত।

ধ্বংসস্তূপ পার করে ওপরের দিকে উঠতে উঠতেই বোঝা যাচ্ছিল কেন গ্রামটির কেউ নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি। ইটপাথরের তৈরি গ্রামের পুরনো ধাঁচের বাড়িগুলো কোনোভাবেই এই মাত্রার ভূমিকম্প সামাল দেওয়ার মতো ছিল না। গ্রামের ২০০ জন বাসিন্দার মধ্যে ৯০ জনের মৃত্যুর খবর সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অনেকেই এখনো নিখোঁজ।

গ্রামের আরেক প্রান্তে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু মানুষ এক ব্যক্তিকে সমবেদনা জানাচ্ছে। ওই ব্যক্তির নাম আবদু রহমান। ভূমিকম্পে তার তিন ছেলে ও স্ত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। বালি-পাথরের একটি স্তূপের দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ি ছিল ওখানে। ওই যে সাদা কম্বল ও কিছু আসবাব এখনো দেখা যাচ্ছে। বাকি সব মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ভূমিকম্পের সময় তিনি যে পেট্রোল পাম্পে কাজ করেন, সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন। সেখান থেকে দৌড়ে বাড়ির দিকে এসে দেখেন সব মাটিতে মিশে গেছে। রহমান বলেন, ‘আমরা যখন তাদের মরদেহ খুঁজে পাই, তখন তারা সবাই একসঙ্গে গুটিসুটি মেরে ছিল। তিন ছেলেই ঘুমাচ্ছিল। ঘুমের মধ্যেই তারা মারা যায়।’

মরক্কোর অ্যাটলাস পর্বতমালা অঞ্চলের একের পর এক গ্রামে এখন একই চিত্র। গ্রামবাসী হাত দিয়ে বা বেলচা, শাবল দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করছেন। আবার কিছুক্ষণ পর ওই বেলচা-শাবল দিয়েই মরদেহের জন্য কবরও খুঁড়তে হচ্ছে তাদের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত