দীর্ঘদিন ধরে লেনদেনের নেতৃত্বে দুর্বল ফু-ওয়াং ফুড

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:১৯ এএম

বহুজাতিকসহ দেশের মৌলভিত্তির প্রায় সব কোম্পানির শেয়ার ক্রেতাসংকটে রয়েছে। এ কারণে প্রায় এক বছর ধরে এসব কোম্পানির শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে পড়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারের লেনদেনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে রুগ্ণ ও কাগুজে কোম্পানিগুলো। গত প্রায় আড়াই মাস ধরেই পুঁজিবাজারে লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে ফু-ওয়াং ফুড লিমিটেড। পুঁজিবাজারের চিহ্নিত কয়েকজন কারসাজিকারক অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারটির দরে উত্থান-পতন ঘটাচ্ছেন।  ব্যক্তিশ্রেণির বড় কারসাজিকারকদের কল্যাণে লেনদেনে এখনো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এ শেয়ার।

গতকাল সোমবার পর্যন্ত টানা ১০ দিন প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর লেনদেন তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। গত ৯ আগস্ট থেকে গতকাল পর্যন্ত ২২ কার্যদিবসের ১৯ দিন সবার ওপরে এ শেয়ার। সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে আলোচিত শেয়ারগুলোর অন্যতম ফু-ওয়াং ফুডের শেয়ারে গত আড়াই মাসে দুই দফায় বড় ধরনের উত্থান ও পতন হয়েছে। দুই দফার উত্থানে শেয়ারটির দর দ্বিগুণ হয়েছে। যদিও মালিকানায় রদবদলের পরও এর আর্থিক অবস্থায় এখনো বড় পরিবর্তন হয়নি।

অবশ্য আর্থিক অবস্থা নয়, জাপানি কোম্পানি মিনোরির অধিগ্রহণ করা আরেক কোম্পানি এমারাল্ড অয়েলের শেয়ারদরের ব্যাপক উত্থান এ শেয়ারটির উত্থানকে উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ কর্মকর্তারা জানান, মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় বড় রদবদলের পর এমারাল্ড অয়েলের বাণিজ্যিক উৎপাদন ও মুনাফায় ফিরিয়ে আনায় শেয়ারটির দর মাত্র তিন মাসে ৩০ টাকা থেকে ছয়গুণ বেড়ে ১৮৮ টাকায় উঠেছিল। একই ব্যবসায়ী ফু-ওয়াং ফুডের মালিকানা নেওয়ায়, এটাকে পুঁজি করে পুঁজিবাজারের একটি চক্র এ শেয়ারটিরও একইভাবে দরবৃদ্ধির ঘটনা ঘটিয়েছে।

মালিকানায় বদল এনে তালিকাভুক্ত রুগ্ণ কোম্পানিগুলোকে ব্যবসায় পুনরুজ্জীবিত করার অংশ হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির প্রস্তাবে সায় দিয়ে গত বছর কোম্পানিটির দায়িত্ব নিয়েছিল মিনোরি। সাবেক এমডি আরিফ আহমেদ চৌধুরীসহ তার পরিবার সদস্যদের শেয়ার ক্রয় এবং নতুন করে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির শর্তে মিনোরি বাংলাদেশ ফু-ওয়াং ফুডের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় এসেছে।

ফু-ওয়াং ফুডের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এসইসির শর্তানুযায়ী পুরো বিনিয়োগ না হলেও কিছু বিনিয়োগ করেছে মিনোরি। এ ছাড়া কোম্পানির উৎপাদন ব্যবস্থায়ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অন্যসব কোম্পানির মতো ফু-ওয়াং ফুডের ব্যবসায়ও প্রভাবিত হয়েছে। এ কারণে আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি তেমন একটা হয়নি।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, মালিকানা বদলের আগেই এ সংক্রান্ত খবরে ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারির মধ্যে ফু-ওয়াং ফুডের ১৪ টাকার শেয়ার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছিল। তবে সব শেয়ারের দরে দ্বিতীয় দফা ফ্লোর প্রাইস আরোপের পর গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছর জুন পর্যন্ত ফ্লোর প্রাইসেই আটকে ছিল। সর্বশেষ জুলাই মাসে হঠাৎ ব্যাপক উত্থান হয় শেয়ারটির দরে। ওই মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে শেয়ারটির দর দ্বিগুণ বেড়ে ৪৬ টাকা ৯০ পয়সায় উঠেছিল। এরপর দরপতনে ফের শেয়ারটির দর ২৫ টাকায় নামলেও গত এক মাসে আবারও দর ৪৪ টাকা ছাড়িয়েছিল। তবে সম্প্রতি একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শেয়ারটির দর ফের কমতে শুরু করে। যদিও গতকাল শেয়ারটির দরপতন ঠেকানো হয়েছে। তারপরও লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে কোম্পানিটি। গতকালও ৩৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে এ শেয়ারটির।

মালিকানা বদলের আগে কোম্পানিটির নানা অনিয়মের কারণে ২০২১-২২ হিসাববছরে ২৫ কোটি টাকারও বেশি লোকসান হয় ফু-ওয়াং ফুডের। অবশ্য নতুন ব্যবস্থাপনার অধীনে কোম্পানিটি নামমাত্র মুনাফা দেখিয়েছে। ২০২২-২৩ হিসাববছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৭ পয়সা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত