‘সর্বস্বান্ত হয়ে থামবে ইউক্রেন’

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:৩২ এএম

ইউক্রেন যুদ্ধের ৫৬৫ দিন পেরিয়েছে। শীতের আগে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে। রাশিয়ার হাতে দখলকৃত এলাকা ফেরত পেতে গত জুনে বহুল প্রতীক্ষিত ‘পাল্টা আক্রমণ’ শুরু করেছিল ইউক্রেন। কিন্তু তথাকথিত সেই ‘কাউন্টার অফেনসিভে’ এখনো কাক্সিক্ষত সফলতা পায়নি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বাহিনী। যদিও প্রতিদিন একটু একটু করে ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ প্রতিরক্ষাব্যূহের কাছাকাছি যাচ্ছে বলে প্রচার করছে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে বাস্তবতা বলছে, এটুকু এগোতে বিপুলসংখ্যক প্রাণহানির কবলে পড়ছে ইউক্রেন। এ পরিস্থিতিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন মনে করেন, পাল্টা আক্রমণে যুদ্ধকৌশলের জেরে নিজেদের সব সম্পদ হারিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার পরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্বাধীন সরকার রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি সংলাপের জন্য আসবে। মঙ্গলবার রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের শহর ভøাদিভস্তকে শুরু হওয়া ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি। পুতিন বলেন, ‘ইউক্রেন এখনো আশা করছে যে পশ্চিমাদের দেওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদণ্ডসাঁজোয়া যান দিয়ে যে কাউন্টার অফেনসিভ তারা শুরু করেছে, তা রাশিয়ার বিপুল ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হবে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, কাউন্টার অফেনসিভ কৌশল শুরুর পর থেকে গত তিন মাসে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ৭১ হাজারেরও বেশি সেনাসদস্য ও কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন।’

রুশ বাহিনীকে পরাজিত ও উচ্ছেদ করতে গত ৪ জুন থেকে ‘কাউন্টার অফেনসিভ’ কৌশল নিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে এ কৌশল যে তেমন কাজে আসছে না, তা ইতিমধ্য প্রমাণিত। কিয়েভ অবশ্য এখনো এ কৌশলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপকভাবে আশাবাদী। কিছুদিন আগে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রীতিমতো আদেশ জারি করে দেশের ভেতর পাল্টা আক্রমণ সংক্রান্ত যাবতীয় প্রকাশ্য সমালোচনা নিষিদ্ধ করেছেন। বিপুল সেনা হারানোর পাশাপাশি ইউক্রেনীয় বাহিনীর ৫৪৩টি ট্যাংক এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে উল্লেখ করে পুতিন বলেন, ‘এ পাল্টা আক্রমণের কোনো ফলাফল নেই। এটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এ কৌশলের কারণে যত দিন যাবে, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে থাকবে। এর জেরে যখন নিজেদের মানবসম্পদ, সামরিক সাজ-সরঞ্জাম, গোলাবারুদ সবকিছু শূন্যের কোঠায় এসে পৌঁছবে, তখন কিয়েভ বলা শুরু করবে ‘আমরা বহুদিন ধরে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করতে চাইছি, কিন্তু তারা (রাশিয়া) কিছুতেই রাজি হচ্ছে না।’

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে কিয়েভের সঙ্গে শান্তি সংলাপ শুরু করতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত