অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে যুক্তরাজ্য

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:২৪ এএম

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, সহিংসতামুক্ত এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে আগ্রহী যুক্তরাজ্য। তাদের প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত আছে তারা। গতকাল মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে পঞ্চম কৌশলগত সংলাপে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ইস্যু নিয়ে আলোচনাকালে এ প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ সংলাপের পর সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, অনিয়মিত বা অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে শিগগিরই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কৌশলগত সংলাপে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংলাপে ঢাকার পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের পার্মানেন্ট আন্ডার সেক্রেটারি ফিলিপ বার্টন।

নির্বাচন নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘যেহেতু তারা (যুক্তরাজ্য) আমাদের পুরনো বন্ধু এবং উন্নয়ন সহযোগী, তাই আমাদের নির্বাচন নিয়ে তাদের আগ্রহ রয়েছে। তারা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন দেখতে চায়, সেখানে যাতে সবাই অংশগ্রহণ করে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমরাও আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি। আমরা ইতিবাচক আলোচনা করেছি।’

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বিষয়ে যুক্তরাজ্যের বক্তব্য কী এ প্রশ্নের জবাবে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক শব্দের অনেক অর্থ হতে পারে। সব মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ এক ধরনের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। সব পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি করবে না, সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। প্রত্যাশা থাকতে পারে যে সবাই করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরাও তাদের বলেছি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক পাঠানো নিয়ে কথা বলেছি। বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানাচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’

নির্বাচনে সহযোগিতার বিষয়ে যুক্তরাজ্য কী বুঝিয়েছে, তারা কোনো মধ্যস্থতা করতে চেয়েছেন কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য সব দলের অংশগ্রহণের জন্য আমরা যদি সুনির্দিষ্ট সহযোগিতা চাই, তারা তৈরি আছে। আমরা বলেছি যে এটা আমাদের নিজস্ব ব্যাপার। নির্বাচন আগেও আমরা করেছি। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে যথেষ্ট যোগ্য। ওরা বলছে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, যেখানে সহিংসতা কম হবে। আমাদের কথা হচ্ছে, জনগণের অংশগ্রহণ যেন নিশ্চিত করতে পারি। প্রতিটি পার্টি করবে কি করবে না, সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।’

রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো প্রস্তাব যুক্তরাজ্য দিয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এমন কোনো প্রস্তাব তারা দেয়নি।’

এসওপির বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আজকের বৈঠকে আমরা দুয়েকটা মেকানিজমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা এসওপি শিগগিরই স্বাক্ষর করব। যেন যুক্তরাজ্যে যারা ভিসার বাইরে থাকছে বা অবৈধ হয়ে আছে, তাদের নিয়ে আসতে পারি। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মবিলিটি নিয়ে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ করতে তারা (যুক্তরাজ্য) সম্মত হয়েছে। সম্প্রতি আমাদের কিছু শিক্ষার্থী এবং কর্মী সেখানে যাচ্ছে, সেটাকে আরও যেন বাড়ানো যায়; সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’

সংলাপে অংশ নেওয়া যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আমাদের এ ধরনের এসওপি আছে। কিন্তু ব্রেক্সিট হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আর আমাদের এসওপি হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে আমরা তাদের সঙ্গে এসওপি করছি।’ এসওপি চুক্তি হলে প্রতি মাসে তিন থেকে চারজন অবৈধ বাংলাদেশি দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলেও জানান হাইকমিশনার মুনা।

জানা গেছে, সংলাপে ঢাকা-লন্ডন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক, দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের বিষয়, রোহিঙ্গা সংকটসহ বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও নিরাপত্তা বিষযয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

চতুর্থ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য কৌশলগত সংলাপ ২০২১ সালে লন্ডনে হয়েছিল। ওই সংলাপে ২০২৯ সাল পর্যন্ত তাদের বাজারে শুল্ক-মুক্ত, কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদানের মাধ্যমে একটি মসৃণ এবং সফল স্নাতক অর্জন এবং রপ্তানি-নেতৃত্বাধীন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছিল যুক্তরাজ্য। গতকালকের বৈঠকেও সেটিও পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত