টাঙ্গাইলের সখীপুরে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। গতকাল মঙ্গলবার সখীপুরের দাড়িয়াপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শিশু সামিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও সামিয়া হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে জুতা বানাইছে, ডুগডুগি বানাইছে তারা আমার বোনের (প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি) পাশে। পাশে নিয়ে যদি তার ভালো হয় তাহলে আমি কী করতে পারি। যারা বঙ্গবন্ধুকে খুন করেছে তারাও আমার বোনের পাশে। আমি কিছু করতে পারি না। আমি আমার বোনকে মায়ের মতো সম্মান করি। কিন্তু আমার এলাকার সাধারণ মানুষের সন্তান সামিয়ার হত্যাকারীরা পার পাবে না। বিচার তাদের হতেই হবে, সে যে-ই হোক। তারা আওয়ামী লীগ করলেও, বিএনপি করলেও।’
তিনি আরও বলেন, ‘২৫ বছর বয়সে আমার মনে হয়েছিল আমি যদি দেশের মা-বোনের ইজ্জত-সম্মান বাঁচাতে না পারি তাহলে আমার বেঁচে থাকার কোনো দরকার নেই। সেজন্য আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু আমি এই দেশ চাইনি,যে দেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা থাকবে না। আমার মায়ের মৃত্যুতে আমি যে কষ্ট পেয়েছিলাম, সামিয়ার মৃত্যুতেও ঠিক ততটুকু কষ্ট পেয়েছি।’
স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্দেশে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘জোয়াহের তুমি এই এলাকার এমপি। তুমি যদি ডিউটি পালন করতে না পারো তাহলে তোমারও বিচার আছে। আমি সাত দিন সময় দিয়ে গেলাম, আমি এটার বিচার চাই।’
প্রতিবাদ সমাবেশে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীরপ্রতীক, হত্যাকাণ্ডের শিকার স্কুলছাত্রী সামিয়ার বাবা রঞ্জু মিয়া, মা রুপা বেগম, সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজিব, স্থানীয় জনতা লীগ নেতা ছানোয়ার হোসেন মাস্টার, আশিক জাহাঙ্গীর, কামরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
গত বুধবার সকালে সখীপুরের দাড়িয়াপুর গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া প্রাইভেট পড়তে যায়। বাড়ি ফেরার পথে অপহৃত হয়। ৪৮ ঘণ্টা পর পুলিশ বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে বনের ভেতর একটি ড্রেন থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
