আবাসিক এলাকায় ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:২১ পিএম

জামালপুরের মেলান্দহ পৌর শহরের আবাসিক এলাকায় ময়লা ফেলে ভাগাড় তৈরি করা হয়েছে। এ ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী ও পথচারীরা। সড়কে মুখ চেপে রাস্তা পার হতে হয় তাদের। এ নিয়ে পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন পৌর মেয়র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেলান্দহ পৌর শহরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-মেলান্দহ থানা রোডের মলিকাডাঙ্গা এলাকায় সড়কের পূর্ব পার্শ্বে ময়লা ফেলে ভাগাড় তৈরি হয়েছে। পৌর শহরের প্রধান সড়ক হওয়ায় এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।

প্রায় এক বছর ধরে এখানে পৌর শহরের সমস্ত ময়লা ফেলা হয়। এ ময়লার দুর্গন্ধে আবাসিক এলাকায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও ওই ভাগাড়ের কাছেই জাহানার লতিফ মহিলা কলেজ, মলিকা ডাঙ্গা মাদ্রাসাতুস সুফা কওমি মাদ্রাসাসহ দুটি মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ রয়েছে। মাদ্রাসা দুটির আবাসিকে শিশু শিক্ষার্থীরা বসবাস করে। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ওই ময়লার পাশ দিয়েই যাতায়াত করে। ওই ময়লা থেকে মশা-মাছি উঠে এসে বাসা-বাড়ির খাবার ও কাপড়-চোপড়ে বসে। এতে প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু, পাতলা পায়খানা, আমাশয়সহ পেটের বিভিন্ন রোগ-বালাই ছড়াচ্ছে। এতে এলাকাটির বয়স্ক ও শিশুদের জন্য ওই এলাকায় বসবাস খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের প্রতিদিন এ ময়লার দুর্গন্ধের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সড়কের পাশে আবাসিক এলাকায় ময়লা ফেলায় এর দুর্গন্ধে বসবাস ও যাতায়াতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১০মাস আগে ওই জায়গায় ময়লা না ফেলার জন্য পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও কোনো প্রতিকার পাননি তারা। এ সময় অতি দ্রুত এ ময়লার দুর্গন্ধ থেকে প্রতিকারের দাবি জানান তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়। ওই ভাগাড়ের ওপর কুকুর ও শিয়াল খাবার খাচ্ছে। এর চারপাশে দুর্গন্ধময় পরিবেশ। ময়লার দুর্গন্ধে সাধারণ পথচারী ও স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নাক চেপে যাতায়াত করে। ময়লার ভাগাড়ের পাশেই বসত-বাড়ির বাসিন্দারা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন স্থানীয়রা।

মলিকা ডাঙ্গা মাদ্রাসাতুস সুফা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো.বেলাল হোসেন বলেন, ‘এ সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। প্রায় এক বছর থেকে বাসা-বাড়ির মাঝখানে সড়কে পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে। যেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে তার দুই পাশে দুটি মাদ্রাসা রয়েছে। ময়লার দুর্গন্ধে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ ওই এলাকার মানুষ আর বাড়িতে থাকতে পাড়ছে না।’

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ডা.শওকত আলী বলেন, ‘আমার বাড়িটা রাস্তার পশ্চিম পাশে। আর ময়লা ফেলা হচ্ছে রাস্তার পূর্ব পাশে। সামন্য একটু ব্যবধান। প্রতিদিন শহরের সমস্ত ময়লা নিয়ে এসে এখানে ফেলা হচ্ছে। ময়লার দুর্গন্ধে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। এ দুর্গন্ধের কারণে এতো গরমের মধ্যেও দরজা-জানালা খুলতে পারছি না। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করার পরও কোনো প্রতিকার পায়নি।

অটোরিকশা চালক সোলাইমান বলেন, ‘এদিক দিয়ে দুর্গন্ধে যাইতে পারি না। যাত্রীরাও এই সড়ক দিয়ে আসতে চায় না। দুর্গন্ধে বমি করে ফেলে। আশেপাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং চারপাশে ঘরবাড়ি রয়েছে। এ এলাকার মানুষ প্রায় সময় অসুস্থ হয়ে যায়।’

পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো.শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাকে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। আমাদের একটি ডাম্পিং স্টেশনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধুই উদ্বোধনের অপেক্ষা। উদ্বোধন হলেই ডাম্পিং স্টেশনে ময়লা ফেলা হবে। তখন আর যত্রতত্র ময়লা ফেলতে হবে না।’

এ প্রসঙ্গে মেলান্দহ পৌরসভার মেয়র শফিক জাহেদী রবিন বলেন, ‘আগে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। বিষয়টা আমি দুই দিন আগে জেনেছি। দ্রুত আমি এ বিষয়টা সমাধানের ব্যবস্থা করব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত