প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি সাংফুয়ের। লি-কে সর্বশেষ প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল গত ২৯ আগস্ট। সেদিন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা শান্তি ও নিরাপত্তা ফোরামে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। তার আগে আগস্ট রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে একটি নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সে সময় বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যায় তাকে। এর আগে চীনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাংও নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরে গত জুলাইয়ে তাকে পদচ্যুত করা হয়।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানাচ্ছে, ২৯ আগস্টের পর লি সাংফুকে দেখা যাচ্ছে না। এ সময়ের মধ্যে তার কোনো বক্তব্যও শোনা যায়নি। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, চীনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ধারণা করছে, লি সাংফুকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অপর একটি কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ৬৫ বছর বয়সী লি সাংফুকে গৃহবন্দি করা হয়েছে।
জাপানে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক রাহম এমানুয়েল গত সপ্তাহে এক্সে (টুইটার) এক পোস্টে দাবি করেছেন, চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাংফুকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তার ধারণা লিকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে চীন কর্র্তৃপক্ষ। এরপরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় বিশ্বজুড়ে। তবে চীন এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রতি তার সরকারে বড় ধরনের রদবদল আনেন। দুই জেনারেলকে সরিয়ে দেন। তাদেরও কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছিল না। এর আগে গত জুলাইয়ে হঠাৎ করে এমন হারিয়ে যান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং। পরবর্তীসময়ে জানানো হয়, গ্যাংকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
লি সাংফুর ‘নিখোঁজ’ থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে যখন ভিয়েতনামে গত ৭ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর একটি নিরাপত্তা সম্মেলনে তার অংশগ্রহণ স্থগিত করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ওই সময় ভিয়েতনামের দুজন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছিল, চীন তাদের জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ‘অসুস্থ’ এ কারণে তার সফর স্থগিত করা হয়েছে।
তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ‘এ ব্যাপারে তারা অবগত নয়।’
