‘মেয়েরা সেনায় যোগ দিতে পারলে ছেলেরা কেন নার্স হতে পারবে না’

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১১:২৩ পিএম

মেয়েরা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারলে ছেলেরা কেন নার্স হতে পারবেন না বলে প্রশ্ন তুলেছেন দিল্লি হাইকোর্ট।

সেনা হাসপাতালগুলোতে কেবল নারী নার্স রাখার ‘অসাংবিধানিক’ প্রথার বিরুদ্ধে সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টে মামলা হয়। সেই মামলার শুনানিতে এই প্রশ্ন তুলেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্ট বলেন, লিঙ্গসাম্য নিয়ে দেশে বিদেশে এত কথা বলা হলেও, কেন নির্দিষ্ট কোনো পেশা থেকে একটি বিশেষ লিঙ্গের মানুষকে সরিয়ে রাখা হবে?

মামলার শুনানি হয় বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা এবং বিচারপতি সঞ্জীব নারুলার ডিভিশন বেঞ্চে।

এই মামলায় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের ঐশ্বর্য ভাটি আদালতে জানান, সেনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধু নারী নার্স রাখার প্রথা দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসছে। তবে আইনসভায় নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ৩৩ শতাংশ নারী সংরক্ষণের বিল লোকসভায় পেশ করেছে, তা-ও আদালতে উল্লেখ করেন কেন্দ্রের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল।

তখন দুই বিচারপতির বেঞ্চ বলেন, এক দিকে আপনারা নারী ক্ষমতায়নের কথা বলছেন, অন্য দিকে আপনারাই বলছেন, পুরুষরা নার্স হতে পারবেন না। একজন মেয়ে যদি সিয়াচেনে (হিমবাহ পর্বতমালা) গিয়ে সেনা অফিসার হিসাবে কাজে যোগ দিতে পারেন, তবে একজন পুরুষও হাসপাতালে কাজ করতে পারেন। ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে নারীদের যোগদানের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে ছাড়পত্র দিয়েছিল, সে কথাও উল্লেখ করে দিল্লি হাইকোর্ট।

আবেদনকারী সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান প্রফেসনাল নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন’এর হয়ে ছিলেন আইনজীবী অমিত জর্জ। তিনি আদালতে বলেন, এখন সব হাসপাতালে পুরুষ নার্স থাকেন। এমনকি শীর্ষ আদালতও বলেছে যে, সেনার গঠনতন্ত্রে কোনো লিঙ্গ বৈষম্য থাকতে পারে না।

মামলাটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করে দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে, এটির পরবর্তী শুনানি আগামী নভেম্বর মাসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত