আজ মিঠাইয়ের মন ভালো নেই।
মামণির বকুনি খেয়েছে এই মাত্র।
ব্যালকনিতে একা একা চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছে সে।
ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ঝরছে। আজ ছুটির দিন। মিঠাই তার মাকে বলেছিল, সে বৃষ্টিতে ভিজবে। মামণির ভাবনা, বৃষ্টিতে ভিজলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।
সেজন্য মিঠাই মায়ের বকুনি খেয়েছে।
মন খারাপ করে সে বাইরে তাকিয়ে আছে। দূরে ইলেকট্রিকের তারে বসে দুইটা কাক ভিজছে। কাক দুটির কত আনন্দ! কাক দুটির কত স্বাধীনতা!
মিঠাইদের বাড়ির সামনেই একটা কদমগাছ। কী সুন্দর হলুদ ফুল ফুটে আছে গাছে। বৃষ্টির পরশ পেয়ে ফুলগুলো যেন আরও বেশি রঙিন হয়ে উঠেছে।
কয়েকজন টোকাই ছেলে তরতরিয়ে গাছে উঠে কদম ফুল পেড়ে আনছে।
মিঠাই তাদের দূর থেকে ডেকে বলে, একটা কদম ফুল দেবে আমায়? দাও না একটা ফুল?
এমন সময় ঘুম ভেঙে যায় মিঠাইয়ের। ও তাহলে এতক্ষণ ধরে স্বপ্ন দেখছিল। আজকে ছুটির দিন। দুপুরের পরে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে।
বাইরে টাপুর টুপুর কীসের যেন শব্দ বাজছে! আরে! এ তো বৃষ্টির শব্দ!
মিঠাই একছুটে চলে যায় বাইরে। দেখে সত্যিই তাই, বৃষ্টি হচ্ছে!
মায়ের কাছে গিয়ে বলে, মা আমি আজ বৃষ্টিতে ভিজব।
মা কিছুক্ষণ ভেবে বলেন, যাও। তবে বেশিক্ষণ ভেজা যাবে না।
মিঠাই বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে খুব আনন্দে। মুক্ত স্বাধীন দুটি কাকের মতো। হলুদ কদম ফুলের মতো।
