দলের প্রত্যাশা বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন কিছু নয়। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে যেমন একেক সময় একেক পজিশনে খেলতে দেখা গেছে। সেই ভূমিকায় এখন যেন অবতীর্ণ হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নেমে করেছিলেন সেঞ্চুরি। ধর্মশালায় আজ সেই আফগানদের বিপক্ষে তিনে নেমে খেলেছেন ম্যাচসেরা ইনিংস।
একেক সময়ে একেক পজিশনে ব্যাট করার মনোজগতে বিঘ্ন ঘটানোই স্বাভাবিক। তবে এসব ভিন্নতার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন তিনি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, 'একটা জিনিস দেখেন বিভিন্ন পজিশনের বিভিন্ন সিচুয়েশন থাকে এবং বিভিন্ন রকম থাকে….বাট আমি বেশি কিছু চিন্তা করার চেষ্টা করি না ওইভাবে। আমি চিন্তা করি যে, যেহেতু আমাকে সুযোগ দিয়েছে অপরচুনিটিটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। আপনি দেখেন আট নম্বরের চেয়ে উপরে যে কোনো জায়গায় ব্যাটিং করাটা ভালো। আমি সেই জিনিসটা হয়তো বিলিভ করি, নিজের কাছে যে না আমি ব্যাটিং করতে পারি। এন্ড অব দ্য ডে টিমও হেল্প পাবে যদি আমি ভালো খেলতে পারি। অবশ্যই অনেক সময় সমস্যা হয়, বাট প্রব্লেমটা বেশি মাথায় নেই না। চিন্তা করি যে, যেখানেই পজিশন দেয় না কেন টিমের প্রয়োজনে আমাকে ভালো পারফর্ম করতে হবে। এন্ড অব দ্য ডে তো আমরা সবাই টিমের জন্য খেলি। আজকে ম্যাচ জিতেছি অবশ্যই দলের সবাই খুশি। এবং আমি বলব বাংলাদেশের মানুষ সবাই খুশি।'
ধর্মশালার উইকেট পেস সহায়ক। সেখানে রানের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু আজ দেখা গেল উলটো চিত্র। স্পিনাররাই সফল, প্রতিপক্ষকে বেঁঁধেও ফেলেছেন অল্প রানে। উইকেটটা সবার কাছেই রহস্যজনক মনে হয়েছে।
এই বিষয়ে মিরাজের ভাষ্য, 'আপনি একট জিনিস দেখেন, প্রথম দিকে যখন পেস বোলাররা ভালো করছিল না তখন কিন্তু আল্টিমেটলি স্পিনারদের উপর প্রেশারটা চলে এসেছে। বাট ফ্রম দ্য স্টার্ট সাকিব ভাই খুব ভালো বোলিং করেছে। দুইটা উইকেট নিয়েছে। তখন থেকে কিন্তু টিমটা বুস্টআপ হয়েছে। এবং তখন থেকে আমিও ভালো বোলিং করা স্টার্ট করেছি। আমি এক এন্ড থেকে সাকিব ভাই আরেক এন্ড থেকে ভালো বোলিং করেছে। এরপর পেস বোলাররা যখন বোলিং করেছে তারাও ভালো বল করেছে। সো এক্সপেক্টেশন ওই রকম ছিল না আসলেই সত্যি। আমরা এই রকম এক্সপেক্টেশন করি নি যে ধর্মশালায় এই রকম উইকেট হবে। টার্নিং হবে। বাট উইকেটটাই যখন আমরা দুইটা তিনটা ওভার বল করেছি—আমি করেছি, সাকিব ভাই করেছে তখন একটু টার্ন করছিল। একটু থেমে আসছিল । তখন ইনফরমেশনগুলো দিচ্ছিল বোলারদের কাছে। আমি যদি একটু ভালো জায়গায় বল করি, বল যদি একটু টার্ন করে আমি কিন্তু ইনফরমেশন দেই। ক্যাপ্টেনকে বা বোলারদেরকে। আবার ক্যাপ্টেনও কিন্তু ওই ইনফরমেশন বোলারদেরকেও দিয়ে দেয় যে এই উইকেটে কিভাবে বল করতে হবে। সো সবার ভেতরে কমিউনিকেশনটা ভালো ছিল। এর জন্য খুব ভালো হয়েছে।'
