কারসাজির মাধ্যমে ব্রয়লার মুরগির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির দায়ে কাজী ফার্মস লিমিটেড ও সাগুনা ফুড অ্যান্ড ফিডস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডকে ৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। এর মধ্যে কাজী ফার্মসকে ৫ কোটি এবং সাগুনা ফুডকে ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনে ব্রয়লার মুরগির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি-সংক্রান্ত দুটি মামলার রায়ে কমিশন আইনের ১৫ ধারায় এমন জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিযোগিতা আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো পণ্য বা সেবার উৎপাদন, সরবরাহ, বিতরণ, মজুদ বা অধিগ্রহণে কোনো চুক্তি বা যোগসাজশ করতে পারবেন না, যা প্রতিযোগিতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে বা বাজারে একচেটিয়া প্রভাব তৈরি করবে।
জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে চাল, আটা, ডিম, হাঁস-মুরগি এবং প্রসাধনী সামগ্রীর মতো জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করার জন্য
কৃত্রিম সংকট তৈরির করে বেশ কিছু কোম্পানি। এমন ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা আইন-২০১২-এর ১৫ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে মামলা করে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিযোগিতা আইন-২০১২-এর ১৫ ধারা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে কাজী ফার্মস লিমিটেড ও সাগুনা ফুড অ্যান্ড ফিডস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করে। এম মধ্যে কাজী ফার্মসকে জরিমানা করা হয়েছে ৫ কোটি এবং সাগুনা ফুড অ্যান্ড ফিডস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডকে ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, কোম্পানিগুলোকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার টাকা দিতে হবে। অন্যথায় জরিমানার সঙ্গে প্রতিদিন এক লাখ টাকা করে কমিশন যুক্ত হবে। তবে কোম্পানি দুটি চাইলে এই রায়ের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আপিল করতে পারবে বলেও জানান তিনি।
