২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যুবকদের ভূমিকা থাকবে সবচেয়ে বেশি। বেকার যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির প্রশিক্ষণেই নজর বেশি। দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের ৬৪টি জেলায় প্রযুক্তি উপকরণ সরবরাহের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারের এ সংস্থাটি। এর মাধ্যমে নতুন করে আরও ৭১ হাজার যুবককে প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে তারা।
জানা যায়, ‘৬৪টি জেলায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধীকরণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার সব অফিসে প্রযুক্তি উপকরণ সরবরাহ করা হবে। এতে ফ্রিল্যান্সিংয়ে জোর দেওয়া হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, বিদ্যমান ২৭৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আধুনিক প্রশিক্ষণ যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ, দেশ ও বিদেশে চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরি, চাকরির ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি, যুবদের উপার্জনমূলক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করে দেশে দারিদ্র্য হ্রাস করা এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বলছে, বর্তমান বিশ্বে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, নেটওয়ার্কিং ও ইন্টারনেট, ওয়েবপেজ ডিজাইন, গ্রাফিকস ডিজাইনিং, খানা এ ট্রাবলশুটিং, ফ্রিল্যান্সিং অ্যান্ড আউটসোর্সিংসহ কম্পিউটার বিষয়ে দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বেকার যুবক ও যুব-নারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনবল সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ৬৪টি জেলায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধীকরণ (দ্বিতীয় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
জানতে চাইলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক এমএ আখের দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ প্রকল্পটি মূলত দেশের সব যুব অফিসে নতুন করে প্রযুক্তি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আগের প্রকল্পে অর্থাৎ প্রথম পর্যায়ে কিছু যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। এবারের আরও কিছু কেনা হবে। কম্পিউটার যন্ত্রপাতি যেগুলো আছে সেগুলো অনেক পুরনো। নতুন যন্ত্রপাতি পেলে প্রশিক্ষণের জন্য সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৭১ হাজার ৫৮০ জনকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। প্রশিক্ষণ দেবেন সরকারের নির্ধারিত প্রশিক্ষকরা। বিশেষ করে এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সারদের সুযোগ থাকবে বেশি।
এর আগে ‘৬৪টি জেলায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য খুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধীকরণ (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৬৪টি জেলায় কম্পিউটার বেসিক অ্যান্ড আইসিটি অ্যাপ্লিকেশন কোর্স, প্রফেশনাল গ্রাফিকস ডিজাইন কোর্স ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজওয়্যারিং, ইলেকট্রনিকস এবং রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং ট্রেডে ছয় মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা ৬৪ হাজার ৮৫০ জনের মধ্যে প্রকল্প মেয়াদে ৬৪ হাজার ৪০ (৯৮.৭৫%) জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
দেশের যুবকদের জন্য আরও নানান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী মুখলেসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুধু প্রযুক্তি খাতেই নয়, সব খাতেই যুবসমাজের জন্য কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে। ১৮ থেকে ৩৫ বছরের সব যুবককে আমরা প্রশিক্ষণ দিই। যে কম্পিউটারে দক্ষ না তাকে হাঁস-মুরগি পালন বা অন্য কোনো প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়। যার জন্য যেটা জুতসই আমরা তাকে সেটিই দিই।’
