মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে সেলিম (৫৫) নামের এক গ্রাম পুলিশ ও তার ছেলে ফারুক হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউপির রাজাপাড়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত গ্রাম পুলিশ ওই গ্রামের মৃত. আনু মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনার হামলাকারী আদ্রা উত্তর ইউপির দক্ষিণ শাকতলী গ্রামের জনি ও রনিকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
আহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার দুপুরের রাজাপাড়া গ্রামের পশ্চিমপাড়া রাস্তার পাশে মাদক সেবন করছেন রনি। এ সময় গ্রাম পুলিশ সেলিম তাকে বাঁধা দিয় বাড়িতে চলে যাওয়ার জন্য বলেন। ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে রনি তার ভাই জনি নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সিএনজিতে রাজাপাড়া গ্রামে এসে গ্রাম পুলিশ সেলিমকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় তার ছেলে ফারুক বাঁধা দিলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাদের চিৎকারে শুনে স্থানীয়রা দৌঁড়ে আহতদের উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেই সঙ্গে হামলাকারী রনি ও জনি দু'ভাইকে আটক করে থানা পুলিশে দেন। সেলিমের ও তার ছেলে ফারুক হোসেনের অবস্থা অবনতি হলে কর্মরত চিকিৎসক তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। সেলিম জোড্ডা পশ্চিম ইউপির রাজাপাড়া ও নোয়াপাড়া গ্রামের গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এ বিষয়ে আহত গ্রাম পুলিশ সেলিমের বড় ভাই আব্দুল কাদের বলেন, ঘটনার দিন দুপুরের দিকে রনি রাজাপাড়া রাস্তা মোড়ে বসে মাদক সেবন করছিলেন। এতে সেলিম তাকে বাঁধা দেয়। রাতে রনি ও জনি দু'ভাই এসে তার ভাই সেলিম ও ভাতিজা ফারুক হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে দেয়। তিনি এ ঘটনার সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রনি মা শিলা বেগম বলেন, তার ছোট ছেলে রনি অটোরিকশা ঠিক করার জন্য রাজাপাড়া গ্রামে যায়। সেখানে গাঁজা খাওয়া নিয়ে গ্রাম পুলিশ সেলিম কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সেলিম তার গালে দুটি চড় মারে। পরে সে বাড়িতে এসে বড় ভাই জনিকে বিষয়টি জানায়। ওই দিন রাতে জনি ঘটনাটি জানার জন্য রনিকে সঙ্গে নিয়ে গ্রাম পুলিশ সেলিমের কাছে রাজাপাড়ায় যায়। সেখানে গেলে সেলিম বলেন, তোরা বুঝি আমার বিচার করতে আসছিস এ বলে সে উত্তেজিত হয়ে জনিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এর মধ্যে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এসে আমার দুই ছেলে বেঁধে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার ছেলেরা অনেক অসুস্থ হাসপাতালে ভর্তি। কারো সঙ্গে কথা বলতে পারছে না।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্রাম পুলিশ সেলিম কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এখনো অভিযোগ দেয় নাই। অভিযোগের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে।
