গাজায় হাসপাতালে হামলায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৩, ১০:২৫ এএম

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আল-আহলি হাসপাতালে দখলদার ইসরায়েলের বোমা হামলায় অন্তত ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের চলমান বিমান হামলায় আহত মানুষদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল হাসপাতালটিতে। সেই সঙ্গে হাসপাতালটি আশ্রয় নিয়েছিল ঘরবাড়ি হারানো হাজারো মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের এই বর্বরোচিত হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন নিরিহ এই ফিলিস্তিনিরা।

এদিকে ইসরায়েলের এই হামলায় নিন্দার ঝড় উঠেছে বিশ্বব্যাপী। নিন্দা জানিয়েছেন অনেক বিশ্বনেতা।

ফিলিস্তিন

ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইসরালের এই হামলাকে গণহত্যা ও মানবিক বিপর্যয় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তার পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছেন তিনি।

হামাস

ফিলিস্তিনের হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহি বলেছেন, ‘হাসপাতাল হত্যাকাণ্ড শত্রুর বর্বরতা এবং তার পরাজয়ের অনুভূতিই নিশ্চিত করে’।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

মার্কন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘গাজার আল-আহলি আরব হাসপাতালে বিস্ফোরণ এবং এর ফলে যে ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটেছে তাতে আমি ক্ষুব্ধ ও গভীরভাবে শোকাহত। এই খবর শোনার সাথে সাথে, আমি জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে কথা বলেছি এবং আমার জাতীয় নিরাপত্তা দলকে ঠিক কী ঘটেছে সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় বেসামরিক জীবনের সুরক্ষার প্রশ্নে আপোষহীন এবং আমরা এই ট্র্যাজেডিতে নিহত বা আহত রোগী, চিকিৎসা কর্মী এবং অন্যান্য নিরপরাধদের জন্য শোক জানাই।’

জর্ডান

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেইসঙ্গে ফিলিস্তিনি নাগরিককে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেন।

বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেছেন, গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলের বোমা হামলা একটি ‘গণহত্যা’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধ’ যা সম্পর্কে কেউ চুপ করে থাকতে পারে না।

কাতার

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গাজার স্কুল, হাসপাতাল ও জনবহুল স্থানে হামলাকে সংঘাত বৃদ্ধির উস্কানি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)

ফিলিস্তিনের আল-আহলি হাসপাতালে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইসাস এক টুইট বার্তায় বলেছেন, গাজার আল-আহলি হাসপাতালে হামলার তীব্র নিন্দা জানায় হু। প্রাথমিকভাবে শতশত মানুষের হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমরা দ্রুত বেসামরিকদের নিরাপত্তা, চিকিৎসারা দাবি জানাই। সেইসঙ্গে
ফিলিস্তিনিদের সরে যেতে ইসরায়েলের নির্দেশ বাতিলের দাবি জানাই।

আরব লীগ

আরব লিগের প্রধান আহমেদ আবুল গীত বলেছেন, আন্তর্জাতিক নেতাদের এই হামলার প্রতিক্রিয়া হিসাবে ‘অবিলম্বে এই ট্র্যাজেডি বন্ধ করতে হবে’।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘কোন ধরণের পৈশাচিক মানুষ হলে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি হাসপাতাল এবং এর অরক্ষিত বাসিন্দাদের উপর বোমাবর্ষণ করতে পারে?’ তিনি জানিয়েছেন, ‘এই যুদ্ধাপরাধ নথিভুক্ত করবে আরব এবং অপরাধীরা তাদের শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না।’

তুরস্ক

এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেন, ‘নারী, শিশু এবং নিরপরাধ বেসামরিকদের একটি হাসপাতালে আঘাত করা ইসরায়েলের সবচেয়ে মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ বর্জিত হামলার সর্বশেষ উদাহরণ। গাজার এই নজিরবিহীন বর্বরতা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।’ ‍

সিরিয়া

এই হামলার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে দায়ি করেছে সিরিয়া। এক বিবৃতিতের বলা হয়েছে, ‘সিরিয়া এই গণহত্যার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে। কারণ ফিলিস্তিনিদের হত্যার জন্য সমস্ত সংগঠিত জায়নিস্ট সত্তার অংশীদার তারা।’

কানাডা

হামলার নিন্দা জানিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন,‘গাজা থেকে যে খবর আসছে তা ভয়ঙ্কর এবং একেবারেই অগ্রহণযোগ্য … যুদ্ধসহ সব ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া দরকার। হাসপাতালে হামলা করা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়’।

ইরান

ইরান ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিমান হামলাকে ‘নিরস্ত্র ও অরক্ষিত মানুষদে ওপর হামলা বলে নিন্দা জানিয়েছে’।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাহায্য সংস্থা মেডগ্লোবালের জাহের সাহলুল এ হামলাকে কোনো চিকিৎসা স্থাপনায় ২১ শতকের সবচেয়ে বাজে আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত