বিল পাস

চিড়িয়াখানায় প্রাণীকে উত্ত্যক্ত করলে জরিমানা

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪২ এএম

চিড়িয়াখানায় গিয়ে কোনো দর্শনার্থী প্রাণীকে উত্ত্যক্ত করলে তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করার বিধান রেখে সংসদে চিড়িয়াখানা বিল, ২০২৩ পাস হয়েছে। পাশাপাশি এতে চিড়িয়াখানার কোনো প্রাণীকে জখম করলে বা অনুমতি ছাড়া খাবার দিলে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর আনা জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করেন স্পিকার।

বিল পাসের প্রক্রিয়ায় আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, চিড়িয়াখানায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে। প্রাণীর খাবারের জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা লুটপাট হয়ে যায়। চিড়িয়াখানায় নানা অব্যবস্থাপনা আছে।

জবাবে মন্ত্রী জানান, বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর দেশের সরকারি সব চিড়িয়াখানা এর অধীনে পরিচালিত হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা উপদেষ্টা কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনো দর্শনার্থী ফি ছাড়া চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করলে তার কাছ থেকে প্রবেশ ফির সমপরিমাণ মূল্য আদায় করা হবে। মাত্রা বিবেচনা করে ২ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে। কোনো দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় কোনো প্রাণীকে উত্ত্যক্ত করলে তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা প্রশাসনিক ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে।

এ আইনে বলা হয়েছে, কোনো দর্শনার্থী চিড়িয়াখানার কোনো প্রাণীকে কোনোভাবে আঘাত বা জখম করলে বা কিউরেটরের নির্দেশনা অমান্য করে বা অনুমতি ছাড়া খাবার দিলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এজন্য দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এসব অপরাধের বিচার করা যাবে।

বিলে আরও বলা হয়েছে, চিড়িয়াখানার কোনো প্রাণীর বয়সজনিত শারীরিক অক্ষমতা বা সংক্রামক রোগ হতে অন্য কোনো প্রাণীর জীবন রক্ষার্থে বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রাণীর অসহনীয় ক্লেশ নিবারণের জন্য ব্যথাহীন মৃত্যু ঘটানো যাবে। চিড়িয়াখানায় কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোনো অবস্থাতেই একই প্রজাতির একই লিঙ্গের একটি প্রাণী রাখা যাবে না। ভেটেরিনারি কর্মকর্তার নির্দেশনা ছাড়া প্রকৃতিগত কারণে দলবদ্ধভাবে অবস্থানকারী প্রাণীদের মধ্য থেকে কোনো প্রাণীকে আলাদা বা এককভাবে রাখা যাবে না। প্রাণীর প্রকৃতি বিবেচনা করে ন্যূনতম প্রাকৃতিক পরিবেশ বা সুবিধাসম্পন্ন খাঁচায় আবদ্ধ বা মুক্ত রাখতে হবে। প্রাণীর প্রকৃতিগত আচরণ, সংশ্লিষ্ট প্রাণীর লালন-পালনে নিয়োজিত ব্যক্তি ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনা করে প্রাণীর খাঁচার অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণের জন্য সরকার এক বা একাধিক চিড়িয়াখানা নির্দিষ্ট করতে পারবে।

বিলে বলা হয়েছে, চিড়িয়াখানায় অবস্থিত প্রাণীর দেহে যেসব রোগ-জীবাণু প্রাণী থেকে প্রাণীতে বা মানুষে সংক্রমণযোগ্য সেসব রোগ-জীবাণু বা পরজীবীর সীমা বা মাত্রা নির্ণয়ের জন্য প্রযোজ্যতা অনুযায়ী নিয়মিতভাবে প্রত্যেক প্রাণীকে পরীক্ষা করে প্রাপ্ত তথ্য প্রত্যেক প্রাণীর জন্য বিধি দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে পৃথকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো চিড়িয়াখানায় বিদেশি প্রজাতির বন্যপ্রাণী কেনা, বিনিময়, উপহার হিসেবে বা অন্য কোনোভাবে সংগ্রহ করা যাবে না। চিড়িয়াখানার কোনো প্রাণীকে লোকালয়ে ছেড়ে দেওয়া যাবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ কল্যাণ তহবিল বিল সংসদে উত্থাপন : বাংলাদেশ পুলিশ (অধস্তন কর্মচারী) কল্যাণ তহবিল বিল জাতীয় সংসদে তোলা হয়েছে। গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিলটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে বলা হয়েছে, কর্মচারী বলতে সাব-ইন্সপেক্টরের নিচের পদমর্যাদার কোনো পুলিশ এবং পুলিশ অধিদপ্তরে কর্মরত পুলিশ নন এমন সব কর্মচারীকে বোঝাবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ (অধস্তন কর্মচারী) কল্যাণ তহবিল ব্যবস্থাপনা বোর্ড নামে একটি বোর্ড থাকবে। পদাধিকার বলে মহাপুলিশ পরিদর্শক এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। তহবিল থেকে কর্মচারী ও তাদের পরিবারকে কল্যাণ অনুদান মঞ্জুরি করবে বোর্ড। কর্মচারীদের দেওয়া চাঁদা, সরকারি অনুদান, তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ থেকে পাওয়া মুনাফা এবং অন্য কোনো বৈধ উৎস থেকে পাওয়া টাকায় তহবিল গঠন করা হবে। প্রত্যেক কর্মচারীর বেতন থেকে মাসিক চাঁদা হিসেবে সরকার নির্ধারিত পরিমাণ টাকা কেটে তা তহবিলে জমা করা হবে।

১৯৮৬ সালে সামরিক আমলে করা দ্য পুলিশ (নন গেজেটেড এমপ্লয়িজ) ওয়েলফেয়ার ফান্ড অর্ডিন্যান্স রহিত করে নতুন এ আইনটি করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত