নির্বাচনের আগে রেকর্ড ৮২ প্রকল্প উঠছে একনেকে

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:৫৯ পিএম

আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনের আগে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনে তোড়জোড় শুরু করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। আগামী একনেকে রেকর্ড ৮২ প্রকল্প উঠছে একনেকে।

আগামী মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরিকল্পনা কমিশনের একনেকের নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, আগামী থেকে সব মিলিয়ে ৮২ প্রকল্প অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। যার মধ্যে ৪৪ টি নতুন ও সংশোধিত প্রকল্প। ছয়টি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প এবং ৩২ টি পরিকল্পনামন্ত্রী কর্ত„ক অনুমোদিত প্রকল্প যেগুলো একনেকে অবহিত করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছzক পরিকল্পনা কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সামনে আর কোন একনেক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তাই আগামী একনেকেই সব গুরুত্বপূর্ণ ও রাজনৈতিক নেতাদের চাহিদার প্রকল্পগুলো অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে। তা না হলে এত প্রকল্প একনেকে তোলা হতো না।

একনেকের কার্যতালিকা তালিকা বিশেস্নষণে দেখা যায়, বেশিরভাগই রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিশ্রুতির প্রকল্প। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা পেয়ে মেঘনা ধোনাগোদা নদীর ওপর ঝুলন্ত সেতুর নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করে নিচ্ছেন। মন্ত্রীপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন অনুমোদন করিয়ে নিচ্ছেন আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর মীরগঞ্জ সেতু। রাষ্ট্রপতির এলাকায় বহুল আলোচিত পাবনা জেলার ইছামতি নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্প অনুমোদন পেতে যাচ্ছে।

ভারতের ঋণে বহুল আলোচিত যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনার নামে দুই প্রকল্প অনুমোদন পাচ্ছে। অত্যাধিক ব্যয়ের চট্টগ্রাম কক্সবাজার হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পও অনুমোদন পাচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত নির্বাচনের আগে এক একনেক সভায় সর্বোচ্চ ৩৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর আর কখনোই একটি সভায় এত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এর আগে কয়েকটি একনেকে ১৫ থেকে ১৮টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। চলতি অর্থবছরে সর্বশেষ ৩২ টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনের আগে সবসময়ই ঝাঁকে ঝাঁকে ‘ভোটপন্থি’ প্রকল্প আসে কমিশনে। রাজনৈতিক তদবির ও চাপে যা দ্রুত অনুমোদন করতে হয়। স্বাভাবিক সময়ে একনেক সভায় পাঁচ থেকে সাতটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে, নির্বাচনের আগে অনুমোদন দেওয়া হয় ২০ থেকে ২৫টি। এসব প্রকল্প স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে ভোট পেতে বড় ভূমিকা রাখে। সংকটের কারণে কয়েক মাস আগেও যেখানে বিদেশি ঋণের প্রকল্প ছাড়া তেমন কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়নি, সেখানে এখন সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্পগুলোই বেশি অনুমোদন পাচ্ছে।’

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার এডিপি নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৩০৯টি চলমান প্রকল্প রয়েছে। ৮২৫টি প্রকল্প বরাদ্দহীন নতুন প্রকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে। সেই তালিকা থেকেই এখন প্রকল্প পাস করা হচ্ছে।

আগামী একনেকে যেসব নতুন বড় প্রকল্প অনুমোদন পেতে যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে, নওগাঁ মাগুরা ও জয়পুরহাট জেলার গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নে তিন প্রকল্প, মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্র স্থাপন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কিশোরগঞ্জের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন প্রকল্প, লার্নিং এডুকেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রকল্প, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অফসাইড পানি সরবরাহের সুবিধাদি স্থাপন প্রকল্প, মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল ৩ এর গ্যাস বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ, যশোর রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রকল্প, দশ জেলায় বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৫ প্রকল্প।

এছাড়া আগামী একনেকে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের ১৮ প্রকল্প অনুমোদন পাচ্ছে। ভৌত অবকাঠামোর বড় প্রকল্প গুলো হচ্ছে, ভাঙ্গা যশোর বেনাপোল মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর, রিজিলিয়ান্ট আরবান অ্যন্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, ইনার সার্কুলার রিং রোড এর বেড়িবাদ রায়ের বাজার থেকে লোহার ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্প, চট্টগ্রাম দোহাজারী মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েল গেজ রেলপথে রূপান্তর প্রকল্প, যমুনা রিভার সাসপেনেবল ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প ইত্যাদি।

এছাড়া আগামী একনেকে মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ছয়টি প্রকল্প তোলা হচ্ছে। যেগুলোর ইতিমধ্যেই তিনবার সংশোধন করা হয়েছে। এবং ৩২টি প্রকল্প সভায় অবহিত করার জন্য তোলা হচ্ছে। যেগুলো ইতিমধ্যেই পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান অনুমোদন দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত