মার্কো ইয়ানসেনের পথচলা শুরু ব্যাটসম্যান হিসেবে। বয়স যখন ৯, একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অপরাজিত ১৬৪ রানের ইনিংস খেলে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ছোট্ট ইয়ানসেনের ব্যাটিং তাণ্ডব সেদিন স্বচক্ষে দেখেছিলেন তার বাবা। ছেলের প্রতিভা দেখে নিজেই নেটে তালিম দিতে শুরু করেন। ইয়ানসেনের যমজ ভাই ডুয়ানও বাবার ছাত্র ছিলেন। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার কারণে পেস বোলিংটা ভালো করতেন ইয়ানসেন। সময়ের পরিক্রমায় পেস বোলিং অলরাউন্ডার হয়ে ওঠেন তিনি। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের নানা ধাপ পেরিয়ে এখন করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব। হয়ে উঠছেন তিন সংস্করণেই দলটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
ইয়ানসেন আলাদা করে নজর কাড়েন তার শারীরিক গড়ন দিয়ে। দলটির সবচেয়ে লম্বা ক্রিকেটার তিনি। পেসারদের জন্য উচ্চতা সব সময়ই বাড়তি সুবিধা দেয়। ইয়ানসেনের ক্ষেত্রেও সেটার ব্যতিক্রম নয়। ব্যাটসম্যানদের জন্য তাই তিনি হয়ে উঠছেন ভয়ের কারণ। বিশ্বকাপে আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের লড়াই। ছন্দে থাকা কিউই ব্যাটসম্যানরা ইয়ানসেনকে নিয়ে আলাদা করে ভাবতে বাধ্য। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসে দুর্দান্ত বোলিং করছেন তিনি। এখন পর্যন্ত প্রতি ম্যাচেই নিয়েছেন উইকেট, দলের সর্বোচ্চ ১৩ উইকেট তার।
ইয়ানসেন আলো ছড়াচ্ছেন ব্যাটিং দিয়েও। সুযোগ পেলেই খেলছেন কার্যকর ইনিংস। শেষ দিকে দলকে এনে দিচ্ছেন দ্রুত রান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেমন ৭ নম্বরে নেমে খেলেছেন ৪২ বলে ৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে যার তার ক্যারিয়ারসেরা। ওয়ানডেতে তার ব্যাটিং গড় ৩৪, স্ট্রাইক রেট ১১৯.২৯।
ইয়ানসেনের মতো বোলিং অলরাউন্ডার নন গ্লেন ফিলিপস। আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হিসেবে মূলত পরিচিত তিনি। তবে অফ স্পিনের জাদুটা ইদানীং ভালোই দেখাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের এই ক্রিকেটার। তার কাছ থেকে তাই অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের আশায় থাকবে কিউইরা। টানা দুই ম্যাচ হারা দলটিকে জয়ে ফেরাতে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে জ¦লে উঠতে হবে ২৬ বছর বয়সী ফিলিপসকেও। সেই সামর্থ্য আছে তার। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তিনি গুঁড়িয়ে দিতে পারেন শক্তিশালী সব বোলিং আক্রমণ। মুহূর্তে বদলে দিতে পারেন ম্যাচের দৃশ্যপট।
টি-টোয়েন্টিতে ১৪৫ স্ট্রাইক রেটের ওপরে ব্যাটিং করা ফিলিপস এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। এই সংস্করণে তার স্ট্রাইক রেট ৯০.৯৬। সর্বোচ্চ ইনিংস ৭২, সেটাও করতে খেলেছেন ৭৬ বল। নিজের প্রথম বিশ্বকাপেও ঠিকমতো হাসছে না তার ব্যাট। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭১ রানের ইনিংস ছাড়া তেমন কিছু নেই উল্লেখ করার মতো। জন্মভূমির বিপক্ষে ওয়ানডেতে এখনো মাঠে নামা হয়নি ফিলিপসের, খেলেছেন কেবল একটি টি-টোয়েন্টি। তাই নতুন একটি অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে তার, বলাই যায়। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স অবশ্য ভালোই। ৭৬ ম্যাচে রান করেছেন ২২৩৭, পাঁচ সেঞ্চুরির সঙ্গে ফিফটি করেছেন ৬টি। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে সামর্থ্য যেকোনো দলের জন্য ভাবনার কারণ।
