গাজায় অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়াই টর্চলাইটের আলোয় সিজার

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৩, ০২:২৪ পিএম

গত সাত অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যাকায় টানা ২৫ দিন ধরে চলছে ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস বোমা হামলা। এমনকি সংঘাতের শুরু থেকেই পুরো গাজাজুড়ে কঠিন অবরোধ দিয়ে রেখেছে দেশটি।

যার ফলে গত ২৫দিন ধরে বন্ধ রয়েছে জরুরি ওষুধ, খাদ্য, পানি, জ্বালানি সরবরাহ। ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েক ডজন হাসপাতাল। এমন অবস্থায় গুরুত্ব আহতদের পাশাপাশি গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মানবিক এই সংকটের মাঝেই আরেক বিপর্যয়, শেষ হয়ে গেছে অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত অতি প্রয়োজনীয় অ্যানেস্থেসিয়া (চেতনানাশক)। এর ফলে গর্ভের বাচ্চাকে বাঁচাতে অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়াই সিজার করতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

ফিলিস্তিনের নারীদের এমন বর্বর মানবিক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিষয়ক তহবিল ইউএনএফপি-এর প্রতিবেদনে।

ইউএনএফপি-এর প্রতিবেদন অনুসারে, গাজা উপত্যকায় প্রায় ৫০ হাজার গর্ভবতী মহিলা রয়েছে যারা খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসা সরবরাহের অভাবের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

ইউএনএফপিএর তথ্য অনুযায়ী গাজায় প্রতিদিন কমপক্ষে ১৬০টি শিশুর জন্ম হচ্ছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরবরাহের সংকটের মধ্যেই। যা অঞ্চলটির ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর আরও চাপ বাড়াচ্ছে ।

পশ্চিম তীরের রামাল্লায় বেসরকারী সংস্থা অ্যাকশনএইডের লিঙ্গ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সরাইদা হোসেন সাবাহ জানান, গাজায় যে বিশৃঙ্খলা ও ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে তাতে সবচেয়ে বেশি বিধ্বস্ত হচ্ছেন নারীরা। মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন গর্ভবর্তী নারীরা।

তিনি জানান, ‘পর্যাপ্ত আলোর অভাবে কোন রকমে মোবাইল ফোনের আলোতে অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়াই সিজার করাতে হচ্ছে তাদের। শুধু অনাগত সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে গর্ভবতীদের নারীদের সহ্য করতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের ভয়ানক যন্ত্রণা।‘

তিনি আরও জানান, একজন গর্ভবতী মহিলা সন্তানের জন্ম দেয়ার পর হাসপাতালে বেশিক্ষণ চিকিৎসা সুবিধা নিতে পারেন ও না। অন্যদের জন্য জায়গা তৈরি করার জন্য কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়।

গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয় হামাস ও ইসরায়েলের চলমান এই সংঘাত। ২৫ দিনের এই যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় ইতিমধ্যে গাজা ভূখণ্ডে নিহতের সংখ্যা ৮ হাজার ৭শত এরও বেশি। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু ও নারী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত