দরপত্র ছাড়াই কোটি টাকার সংস্কারকাজ!

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:০৯ পিএম

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনা টেন্ডারে (দরপত্র) প্রায় কোটি টাকার সংস্কারকাজ হচ্ছে। বিনা টেন্ডারে সরকারি ভবনের নকশা পরিবর্তন করে ‘খেয়ালখুশি’ মতো কাজ বাস্তবায়ন করে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। আর এতে কিছু কর্মকতা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায় দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গেল তিনমাস ধরে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনতলা ভবনের নিচতলায় জরুরি বিভাগের আগের কয়েকটি কক্ষের দেওয়াল ভেঙে নতুনভাবে ইটের গাঁথুনিসহ স্টিলের লাল রঙের দরজা ও জানালা লাগানো হয়েছে। আর তিনতলা ভবনের প্রবেশপথে পিলার স্থাপনের মাধ্যমে কক্ষ তৈরির কাজ চলছে।

সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের শেষের দিকে বিশ্ব ব্যাংকের কক্সবাজারে কর্মরত প্রতিনিধিরা পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও’র কাছ থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংস্কারের জন্য চাহিদা চেয়ে একটি চিঠি দেন। এরপর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডাক্তার মো. মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী ৫০ থেকে ৬০টি আইটেমের সংস্কারকাজের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির কাছে লিখিতভাবে একটি পত্র দেন। এরপর বিশ্ব ব্যাংক দাতা সংস্থা ইউনিসেফের মাধ্যমে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫ আইটেমের সংস্কারকাজ চলতি বছরের আগস্ট মাসে শুরু করেন। যদিও কাজ শুরু করার কথা ছিল জুন মাসে। নানা কারণে যথাসময়ে তারা কাজ শুরু করতে পারেনি। ইউনিসেফের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান চট্টগ্রামের ‘বুনিয়াদ প্রকৌশল’ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগ উঠেছে, কার্যাদেশ পেয়ে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে এক প্রকার অন্ধকারে রেখে নিজেদের ইচ্ছেমতো গত তিন মাস ধরে কাজ করছে ইউনিসেফ ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রকল্প এলাকায় কাজ তদারকি করার জন্য ইউনিসেফ নিযুক্ত মো. শাহেদ নামের একজন প্রকল্প প্রকৌশলী রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্প প্রকৌশলী বলেন, পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইউনিসেফের তদারকিতে ২৫টি আইটেমের সংস্কারকাজ হচ্ছে। সম্পূর্ণ কাজ ইউনিসেফ দেখভাল করছেন। কাজটি কত টাকা বাজেটের বা টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়েছে কি না তার কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে এ প্রতিনিধিকে জানান।

নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কোনো কাজ এক লাখ টাকার ওপরে হলে ডিএফপিভুক্ত জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করতে হয়।

অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই দাতা সংস্থা ইউনিসেফ কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে গোপনে আঁতাতের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করছেন।
     
প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইউনিসেফের অর্থায়নে কোটি টাকার সংস্কারকাজ করা হলেও প্রকল্প পরিচিতিমূলক কোনো সাইনবোর্ড টাঙানো হয়নি। পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরাও প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। ইউনিসেফের দায়িত্বরত কয়েকজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে বিনা টেন্ডারে সরকারি ভবনের নকশা পরিবর্তন করে অনিয়মের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডাক্তার মো. মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি হচ্ছে কি না জানা নেই। তবে খুঁটিনাটি সবকিছু খোঁজ নিয়ে দেখব।

এ প্রসঙ্গে জানতে কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা বলেন, ইউনিসেফ পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অত্যাধুনিক জরুরি বিভাগ করে দিচ্ছে। আরো বেশ কিছু কাজ করছে। এ কাজগুলো হলে পেকুয়ার মানুষ আরো সেবা পাবে।

বিনা টেন্ডারে সরকারি ভবনের নকশা পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভবনের পিলার ভাঙা হচ্ছে না, উর্দ্ধমুখীও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে না। তাই এটিকে নকশা পরিবর্তন বলা যাবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত