গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিলেন লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান সৈয়দ হাসান নাসরাল্লাহ। এ সময় গাজায় অব্যাহত সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন তিনি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় লেবাননের টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয় তার বক্তৃতা। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে।‘ খবর আল জাজিরা ও রয়টার্স।
তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে কোনো যুদ্ধ যাঁরা ঠেকাতে চান অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই অবিলম্বে গাজায় এই আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। কারণ, এটা তাদেরই আগ্রাসন।‘
তিনি আরও বলেন, “আমরা একটা জঙ্গলে বাস করছি। গাজায় নিরস্ত্র প্রতিরক্ষাহীন মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী যুক্তরাষ্ট্র।“
এ সময় তার ইরান-সমর্থিত দল ভূমধ্যসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোকাবেলা করতে প্রস্তুত বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
হিজবুল্লাহর প্রধান বলেন, ‘তোমরা, আমেরিকানরা ভালো করেই জানো, এই অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হলে তোমাদের নৌবহর কাজে আসবে না, আকাশপথে লড়াই করেও সুবিধা করতে পারবে না। আর (যুদ্ধ বাধলে) তোমাদের (ভূরাজনৈতিক) স্বার্থ, সেনা ও নৌবহরকেই এর মূল্য চোকাতে হবে।’
গত ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলে হামলার পর থেকে লেবানন সীমান্তেও ইরান–সমর্থিত হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের সঙ্গেও ইসরায়েলি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
বক্তৃতায় নাসরাল্লাহ বলেন, হামাসের হামলার পরের দিন থেকেই যুদ্ধে প্রবেশ করেছে হিজবুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ দাবি করে যে আমরা যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছি। আমি আপনাকে বলছি, আমরা ৮ অক্টোবর থেকে এই যুদ্ধে নিযুক্ত আছি।‘
বক্তৃতায় নাসরাল্লাহ অন্যান্য আরব দেশগুলোকেও গাজাকে সাহায্য করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ইরানের মত অন্যান্য আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে ইসরায়েলে তেল, গ্যাস এবং খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করার আহ্বান জানান হিজবুল্লাহর প্রধান।
