দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি ১৪ লাখ টন আলু উৎপাদন হলেও চলতি বছর রেকর্ড গড়ে ৭০ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি হয়েছে। আলুর এমন মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে সম্প্রতি দেড় লাখ টনের বেশি আলু আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। এর আগেও ১৪ সেপ্টেম্বর আলুর দাম নির্ধারণ করে দেয়। পাশাপাশি বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর নিয়মিত অভিযান ও জরিমানাতেও নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়নি। উল্টো দাম আরও বেড়েছে।
রাজধানীর মালিবাগ, মগবাজার, কারওয়ান বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমদানি হওয়ায় বাজারে আলুর দাম কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে পাইকারিতে ভারতীয় আলুর কেজি ৩২ এবং দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৪ টাকা। গত কদিনের ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম কমেছে কেজিতে ১৫ টাকা এবং খুচরায় প্রতি কেজি দেশি আলু ৪০ থেকে ৪৫ ও ভারতীয় আলু ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তা ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে সরকারের নজরদারি করার পরও দাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এর আগে পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে। পেঁয়াজের মতো আলু আমদানি হওয়ায় দেশের বাজারে আলুর দাম কমতে শুরু করেছে। তা ছাড়া, বাজারে নতুন আলু আসায় একটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে বাজারে ভারতীয় আলু ও দেশীয় নতুন আলু আসায় এই পণ্যটির দাম কমতে শুরু করেছে।
কারওয়ান বাজারের আলু ব্যবসায়ী হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দাম দ্রুত কমে আসার পেছনে আলু আমদানির ভূমিকা রয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি দেশি আলু বিক্রি করেছি ৭০ টাকায়। আর খুচরা হিসেবে প্রতিটি আলুর দাম পড়েছে ১২ টাকার বেশি। কিন্তু ভারতীয় আলু আসায় বর্তমানে প্রতি কেজি আলু বিক্রি করছি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।’
গত ৩০ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয় অনুমোদনপত্র দিতে শুরু করে। ১ লাখ ৬২ হাজার টন আলু আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৭০০ টন। আমদানির আগে দেশি আলু কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছিল।
