ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের বড়হিত ইউনিয়নের দিনমজুর আসাদুল্লাহ কাঁচাবাজারসহ কিছু নিত্যপণ্য কিনতে ৮০০ টাকা নিয়ে পৌর বাজারে এসেছেন। কী কী জিনিস নিতে হবে বাড়ি থেকে বলে দিয়েছেন স্ত্রী। কিন্তু অর্ধেক জিনিস কিনতেই প্রায় পুরো টাকা শেষ। বাকি জিনিস কীভাবে নেবেন সেই চিন্তা করছিলেন। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদককে আসাদুল্লাহ বলেন, ‘কাঁচাবাজার তো কিনলামই না। এসব ছাড়া তো রান্না হবে না। আবার বউয়ের পান-সুপারি না কিনলেও নয়। এখন কোনটা ছেড়ে কোনটা কিনব, চিন্তা করেও পারছি না। ইনকাম বাড়েনি, জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। দ্যাশটা অহন আমরার মতো গরিবের লাইগ্যা না। গরিবকে দেখার যেন কেউ নেই। এভাবে কি বেঁচে থাকা যায়? শুধু পারি না চিল্লাইয়্যা কানতে।’
আসাদুল্লাহর মতো অনেকেই আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না। পৌর এলাকার শিমরাইল গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরার মতন কম ইনকামের গরিব মানুষ অহন কী করব! কি খাইয়্যা বাঁচব? বাজারে জিনিসের যে দাম! বছর খানেক আগেও তিন-চারশ টেহায় ব্যাগভর্তি বাজার করেছি। এখন হাজার টেহায়ও
হয় না।’
কাঁচাবাজারে সপ্তাহখানেক আগেও ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি কিছু শীতকালীন সবজি আসায় কয়েকটি সবজির দাম সামান্য কমেছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে বেগুন ও পটল। কচুমুখী আর মুলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। ঝিঙে ও ঢ্যাঁড়স বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ছোট আকারের ফুলকপি প্রতি পিস ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা এবং শিম বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে। কাঁচা মরিচ ১১০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, লাউ প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা এবং আলু ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। বাজারের মুদি দোকানগুলোতে দেখা যায়নি কোনো মূল্য তালিকা।
এদিকে মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বড় আকারের রুই-কাতল ও কার্প জাতীয় মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে। অপরদিকে মাংসের দাম শুনেই দোকান থেকে ঘুরে যাচ্ছেন অনেকে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি।
দিনমজুরদের পাশাপাশি নিম্ন ও মধ্যবিত্তরাও ভালো নেই। পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মেটাতে না পারার কষ্টের কথা লজ্জায় কাউকে বলতেও পারছেন না তারা।
মাজহারুল ইসলাম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক বলেন, ‘যে টাকার বেতনে চাকরি করি, বাসা ভাড়া ও পোলাপানের পড়ালেখার খরচ দেওয়ার পর কখনো ভালো কিছু খেতে পারি না। সন্তানদের আবদার তো দূরের কথা, সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে। যে কারণে স্ত্রী-ছেলে-মেয়েদের কাছে দিন দিনই নিজের মুখটা ছোট হয়ে আসছে।’
কাঁচামাল ব্যবসায়ী সুমন মিয়া ও শফিকুল ইসলাম জানান, কাঁচা পণ্য কিনে তারা কেজিতে দুই থেকে চার টাকা লাভে বিক্রি করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. হাফিজা জেসমিন বলেন, ‘সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের নিয়ে মিটিং করে আবশ্যিকভাবে মূল্য তালিকা ও ক্রয় বিক্রয় রসিদ রাখার জন্য বলা হয়েছে। কিছুদিন আগেও পৌর বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। পুনরায় বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও বাজার মনিটরিং করা হবে। নির্ধারিত দামের চেয়ে কেউ বেশি বিক্রি করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
