পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ছবি তুলে জীবিকা নির্বাহ করা কয়েকশ ফটোগ্রাফার দুরবস্থার মধ্যে পড়েছেন। অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে তাদের পরিবারগুলো। কুয়াকাটা সৈকতে এমন শত শত ফটোগ্রাফার রয়েছেন, যারা পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল।
বিএনপির আন্দোলন-কর্মসূচির জেরে গত ২৭ অক্টোবর থেকে কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসা পর্যটকদের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে, তৃতীয়বারের মতো অবরোধ ডাকায় পর্যটকদের ভ্রমণ একেবারেই শূন্যর কোঠায়। তাই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ফটোগ্রাফাররা। তাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন, যারা অন্য উপজেলা থেকে এসে ছবি তুলে জীবিকা নির্বাহ করেন। দেশের অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে তাদের অন্য আয়ের পথও নেই।
সৈকতে ছবি তোলেন ফটোগ্রাফার মাসুদ রানা। তিনি বলেন, আট বছর ধরে কুয়াকাটা সৈকতে ছবি তুলি। মোটামুটি ভালোই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করোনা এলো, পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ে কুয়াকাটা। আমাদের চলতে অনেক কষ্ট হয়েছে। তারপরে আবার পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে যখন পর্যটক আসতে শুরু করে তখন আমরাও ভালো আয় করে ভালোই চলছিল। কিন্তু এখন হরতাল-অবরোধে কুয়াকাটায় কোনো পর্যটক দেখা যাচ্ছে না। পর্যটক না এলে তো আমরা চলতে পারি না। আগে দৈনিক এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা আয় করতে পারতাম। এখন ২০০ টাকাও হয় না।
কুয়াকাটা ফটোগ্রাফার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আল আমিন কাজী বলেন, অবরোধের কারণে পর্যটকশূন্য হওয়ার কারণে খুবই খারাপ অবস্থায় আছি। বর্তমানে আড়াইশতাধিক ক্যামেরাম্যান আছে, এদের মধ্যে এমনও আছে এক দিন ইনকাম করতে না পারলে না খেয়ে থাকতে হয়। কাজ না থাকায় অনেক ফটোগ্রাফার অনাহারে-অর্ধাহারে রয়েছেন। তারা কারও কাছে হাত পাততেও পারছেন না।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা পর্যটন খাতে। এভাবে চলতে থাকলে পর্যটন সংশ্লিষ্ট একটি বড় অংশের জীবনযাত্রা হয়ে পড়বে অমানবিক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কুয়াকাটায় যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রয়েছে তারা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
