সংগঠনের সভাপতি মারা গেছেন দেড় মাস আগে। এর মধ্যে শোকসভার মতো কোনো কর্মসূচি পালন করা হয়নি। অথচ, সেই সভাপতির পদ বাগিয়ে নিতেই এখন দেনদরবার শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। এই পদ পেতে টাকার লেনদেনের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে আলোচনা-সমালোচনা।
ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা যুবলীগে। সংগঠনের উপজেলা সভাপতি ও বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম গত ২৫ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে মারা যান। এতদিনেও দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কর্মসূচি পালন করা হয়নি। কিন্তু সেই পদে বসতেই এখন মরিয়া হয়ে উঠেছেন নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের যে কোনদিন বাঁশখালী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কিংবা আহ্বায়কের নাম ঘোষণা করতে পারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগ। শীর্ষ পদে আসতে প্রায় অর্ধশত জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে। সভাপতি পদ পেতে অনেকে টাকা নিয়ে দেনদরবার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পদপ্রত্যাশী একজন অভিযোগ করে বলেন, সিভি জমা না দিয়ে, একদিনও যুবলীগ না করে যুবলীগের পদে আসতে অনেকেই তৎপর। এমনকি বিভিন্ন পদে আসতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে শুনতে পাচ্ছি। যুগ্ম আহ্বায়ক পদে কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তির নাম শোনা যাচ্ছে। অথচ বাঁশখালীতে একসময় কাজিম মোস্তফা চৌধুরী কাঞ্চন, মোজাম্মেল হক চৌধুরী ও সর্বশেষ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাজুল ইসলাম যুবলীগের নেতাকর্মীদের নানাভাবে সংগঠিত করেছেন। সেখানে যুবলীগ করেনি এমন অনেকে এ পদে আসতে নানাভাবে ‘লবিং’ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ক্ষুদ্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছে মাঠের কর্মীরা। যোগ্যদের পদবঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল তাজুল ইসলামকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ মাকছুদ মাসুদকে সাধারণ সম্পাদক করে বাঁশখালী যুবলীগের দুই সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটি এতদিনেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি।
তবে অনেক নেতাকর্মীকে যুবলীগ নেতা হিসেবে সাথে নিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন সভাপতি। এর মধ্যে সভাপতি তাজুল ইসলাম ২৫ সেপ্টেম্বর মারা গেলে পদটি শুন্য হয়। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাকছুদ মাসুদ ব্যবসায়ীক কাজে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় নতুন করে যুবলীগের কমিটি গঠন ও পদ পেতে তোড়জোড় শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের অঙ্গসংগঠনগুলো সক্রিয় করার অংশ হিসাবে বাঁশখালী উপজেলা যুবলীগের কমিটি গঠন হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। অনেকে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকলে ও এ পদ পেতে এবং অনেকে অন্য পদে থাকলেও নতুন করে পদোন্নতির জন্য নানাভাবে নিজেদের সরব করে তুলছেন।
উপজেলা যুবলীগের শীর্ষ পদে আসতে যারা চেষ্টা করছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট তোফাইল বিন হোছাইন, জেলা পরিষদের সদস্য নুরুল মোস্তফা সিকদার সংগ্রাম, বাঁশখালী পৌরসভা যুবলীগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ হামিদ উল্লাহ, খানখানাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বদরুদ্দিন চৌধুরী, জাহেদ আকবর জেবু, সেলিম উদ্দিন, শাহাদত রশিদ চৌধুরী। যারা জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন তাদের বাইরেও অনেকে পদে আসার চেষ্টা করছেন।
পদপ্রত্যাশী বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র এসএম তোফাইল বিন হোছাইন বলেন, আওয়ামী লীগে যুবলীগের গুরুত্ব অনেক। এ পদে যে আসীন হবে তার অবশ্যই জনপ্রিয়তা, জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা, কর্মীবান্ধব হওয়াসহ সবকিছু বিবেচনা করতে হবে। এসব বিবেচনা করেই দল থেকে এ পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে। এমন কাউকে দেবে না যাদের নানারকম মামলা-মোকদ্দমা আছে কিংবা জনগণের ও কর্মীদের সাথে যোগাযোগ নেই।
অপরদিকে ২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিল বাঁশখালী পৌরসভা যুবলীগের মোহাম্মদ হামিদ উল্লাহকে আহ্বায়ক, উত্তম কুমার কারণ ও গিয়াস কামাল চৌধুরীকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটিতেও নতুন করে কাউকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি।
এ ব্যাপারে বাঁশখালী পৌরসভা যুবলীগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ হামিদ উল্লাহ বলেন, দল প্রয়োজনে কমিটি গঠন এবং বিলুপ্ত করবে। তবে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তাজুল ইসলামের মৃত্যুর পর যে পদটি শুন্য হয়েছে সেটার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমি যেহেতু দীর্ঘদিন যাবৎ পৌরসভা যুবলীগের আহ্বায়ক ছিলাম, তাই উপজেলা সভাপতি হতে সিভি জমা দিয়েছি। এ ছাড়া আরো কয়েকজন সিভি জমা দিচ্ছে বলে জানা গেলেও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এসব ব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ.ন.ম ফরহাদুল আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, বাঁশখালীতে যুবলীগের সভাপতির মৃত্যু এবং সম্পাদক দেশে না থাকায় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। যার জন্য ইতিমধ্যে অনেকে বায়োডাটা জমা দিয়েছে। কর্মীবান্ধক সংগঠকদের নিয়ে অচিরেই আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে, পরে ইউনিয়নের কমিটি গঠনের পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলে তিনি জানান।
