মিয়ানমারে তীব্র লড়াই ভারতে পালাচ্ছে হাজারো মানুষ  

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:১২ পিএম

মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর সঙ্গে দেশটির জাতিগত বিদ্রোহীদের লড়াই তীব্র রূপ নিয়েছে। সোমবার (১৩ নভেম্বর) মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক চৌকিতে হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহীদের দমনে জান্তা বাহিনী নতুন দুটি ফ্রন্টে ব্যাপক আক্রমণ করছে। ফলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রাখাইন রাজ্যের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইন থু খা বলেছেন, রাথেডাং ও মিনবিয়া এলাকায় দুটি ফাঁড়ির দখল নিয়েছে তাদের যোদ্ধারা। তিনি বলেন, আমরা কয়েকটি ফাঁড়ি দখল করেছি। অন্যত্র লড়াই চলছে।

রাথেডাংয়ের একজন বাসিন্দা বলেন, সোমবার ভোরের দিকে বন্দুকের গুলির শব্দ শোনা গেছে। পরে কয়েক ঘণ্টা ধরে সেখানে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। সামরিক বাহিনী এলাকায় প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। রাথেডাংয়ের প্রশাসনিক ভবনগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে দেখা গেছে।

ভারতের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের চিন রাজ্যেও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিদ্রোহীদের সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। বিদ্রোহীরা দুটি সামরিক শিবিরে হামলা চালিয়েছে বলে একজন ভারতীয় কর্মকর্তা ও হামলার বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত চিন রাজ্য মোটামুটি শান্ত ছিল। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়।

মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী জেলা চম্পাইয়ের প্রশাসক জেমস লালরিঞ্চানা বলেছেন, প্রায় ৫ হাজার মানুষ ভারতের মিজোরামে প্রবেশ করেছেন সংঘাত থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের আশায়।

সাম্প্রতিক সংঘাতের বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের মুখপাত্রের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা জান্তা এসব হামলায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অক্টোবরের শেষ দিকে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই সমন্বিত হামলা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তারা কয়েকটি শহর ও সামরিক ফাঁড়ি দখল করেছে।

জান্তা মনোনীত প্রেসিডেন্ট গত সপ্তাহে বলেছিলেন, বিদ্রোহীদের ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় মিয়ানমার ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সেনাবাহিনীর দাবি, তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

 

 

 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত