শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছে পোশাকের বাড়তি দাম চেয়ে চিঠি দিয়েছে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সম্প্রতি পোশাকের দাম বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের (এএএফএ) সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন ল্যামারের কাছে এ চিঠি পাঠিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।
আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে যেসব পণ্য জাহাজিকরণ হবে, নতুন মজুরির আলোকে তার মূল্য সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে মনে করে বিজিএমইএ।
ল্যামারের কাছে লেখা চিঠিতে ফারুক হাসান বলেন, গত ৭ নভেম্বর সপ্তম গ্রেডের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৩ দশমিক ৬৩ ডলার বা ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। এতে মূল মজুরি বেড়েছে ৬৩ দশমিক ৪১ শতাংশ।
বৈশ্বিক এবং অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যে মজুরি বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে ফারুক হাসান চিঠিতে লেখেন, এমন এক সময় মজুরি বাড়ানো হয়েছে যখন বিশ্ব অর্থনীতি এক ধরনের অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। আমাদের দেশের অর্থনীতিও একই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। এ সংকটের প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের মধ্যেও। বিশেষ করে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ক্রমেই বাড়ছে, এর মধ্যে জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে সুদহার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, ফলে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও ব্যয়বহুল হয়েছে।
তিনি বলেন, এ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়িত হলে আমাদের দেশের অনেক কারখানার জন্য খুব বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে।
ফারুক হাসান বলেন, যেহেতু আমরা শ্রমিকদের সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্য জীবনের জন্য ন্যূনতম মজুরি মেনে নিয়েছি। সুতরাং এই মুহূর্তে ক্রয়াদেশের ক্ষেত্রেও সব শর্ত মেনে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করার জন্য, যেসব পণ্য ১ ডিসেম্বর থেকে জাহাজিকরণ করা হবে তার মূল্য সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এখন থেকে সব ব্যবসায়িক আলোচনা এবং চুক্তি নতুন ন্যূনতম মজুরি নীতি মেনে চলতে হবে।
তার সংগঠনের সদস্যদের বিষয়টি জানানোর আবেদন জানিয়ে ফারুক হাসান লেখেন, স্টিফেন ল্যামার যাতে তার এএএফএ সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করেন। বাংলাদেশি পোশাক সরবরাহকারীদের যাতে বিষয়টিতে সহযোগিতা করেন।
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান এমন সময়ে ক্রেতাদের কাছে এই চিঠি লিখলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ক্রমশ কমছে। বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজারটিতে গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৩ শতাংশ।
এর আগে স্টিফেন ল্যামার শ্রমিকনেতা শহিদুল ইসলাম হত্যাকান্ডের পর উদ্বেগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি লেখেন। তাতে তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি বাড়ানোর দাবির পাশাপাশি হত্যাকান্ডে দোষীদের শাস্তিও দাবি করেন।
এদিকে মজুরি নির্ধারণের পর কয়েক দিন শ্রমিকদের আন্দোলন চললেও এখন তা কমে এসেছে। প্রায় বেশিরভাগ পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বিজিএমইএ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কাশিমপুর ও কোনাবাড়ী এলাকার শ্রমিকরা, শ্রমিক সংগঠন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন, শিল্প পুলিশ এলাকা দুটির শ্রমিকরা কারখানায় কাজ করতে চায়। কাশিমপুর ও কোনাবাড়ী এলাকায় তিনটি পোশাক কারখানা বাদে সব পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। কারখানাগুলোতে স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। তিনটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ করতে চাইলে কারখানাগুলো খুলে দেওয়া হবে।
তবে আশুলিয়া এবং মিরপুরের প্রায় ৯৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ আছে বলেও জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কারখানাগুলো খুলে দেওয়া হবে।
