'হাঁটু গেড়ে বসে' বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে ঝুলছিলেন পপি

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:১৪ পিএম

সোনাগাজীতে জাহানারা আক্তার পপি নামে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে পৌরসভার কোর্ট এলাকায় অবস্থিত শ্বশুরবাড়ি থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত গৃহবধূর  ৪ বছর বয়সী ছেলে সন্তান মানুসান আফরান জানিয়েছে, দাদা আবু ইউসুপ তার মাকে হত্যা করে ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। একই দাবি করেন নিহতের পিতা ও ভাই।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, গত ৫ বছর আগে সোনাগাজী পৌরসভার বাসিন্দা সৌদিপ্রবাসী আবু জাহেদ সুমনের সাথে মতিগঞ্জ ইউনিয়নের স্বরাজপুর গ্রামের নেজাম উদ্দিনের মেয়ে জাহানারা আক্তার পপির বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর জীবিকার তাগিদে সুমন সৌদি আরব চলে যায়।

নিহত গৃহবধূর ভাই আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, বোনের প্রথম সন্তান জন্মগ্রহণের পর থেকে শ্বশুর-শাশুড়ি ননদ তার ওপর মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। গত বছর দুলাভাই দেশে ফিরে তাদের মিলমিশ করিয়ে দেন। দুলাভাই ফের সৌদি চলে গেলে পুনরায় বোনের ওপর নির্যাতন শুরু করেন। গত কয়েক দিন আগে শ্বশুর আবু ইউসুপ ও ননদ লাভলি আক্তার আমার বোনকে মারধর করেন। জানতে পেরে কথা বলতে গেলে বাবার সাথে বোনের শ্বশুর অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ নিয়ে বোনের সাথে তর্কাতর্কির জেরে হত্যার পর মরদেহ বৈদ্যুতিক পাখার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করবেন বলে জানান তিনি।

নিহতের ছেলে মানুসান আফরান বলেন, দাদা মাকে পাখার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। এসময় দাদার সাথে আরও কয়েকজন লোক ছিল।

স্থানীয় রাহেলা আক্তার নামে গৃহবধূ বলেন, পপি খুব শান্ত ও ভদ্র আচরণ করতেন। তার ওপর নির্যাতনের ঘটনা এলাকার সবাই জানে। ঘটনার পর তার শ্বশুর দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছে দেখে আমরা তাদের ঘরে যাই। ওই সময় ঘরের সামনে শাশুড়িকে কাঁদতে দেখে আমরা ভেতরে গিয়ে শয়নকক্ষে পপিকে হাঁটু গেড়ে বৈদ্যুতিক পাখার সাথে ঝুলতে দেখি। পরে পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়।

এদিকে, ময়নাতদন্তের পর শনিবার সন্ধ্যায় নিহতের লাশ বাবার বাড়িতে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে গেলে ঘর তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। তাদের ব্যবহৃত ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা যায়নি।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি হাসান ইমাম বলেন, অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর বৈদ্যুতিক পাখায় ঝুলানো মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। যদি নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হয় গুরত্বসহকারে তদন্ত করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত