বাবা, সামওয়ান ফলোয়িং মি: বর্ণবৈষম্যের আভাস নাকি অন্যকিছু 

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:৫৩ পিএম
‘হ্যালো, বাবা! কিপ টকিং, ফোন কাটবা না। আমাকে একজন অজি ফলো করছে’— এমন ভয়েস ওভার ভেসে আসে ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে। মেয়ের ফোন পেয়ে বাবা অস্থির হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পাগলের মতো ছুটাছুটি করতে থাকেন এরপর লোকাল থানায় অভিযোগ করেন। সদ্য প্রকাশ্যে আসা ‘বাবা, সামওয়ান ফলোয়িং মি’ ওয়েব ফিল্মের ট্রেলারের শুরুটা এমনই ছিল। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই ফিল্মটি নির্মাণ করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা শিহাব শাহীন।

 

প্রায় দুই মিনিটের ট্রেলারে এক রহস্যময় ঘটনার আভাস দিয়েছেন নির্মাতা। যেখানে বেশ কিছু তথ্য থাকে এমন- অস্ট্রেলিয়ায় দশজন শিশুর সাতজনই বর্ণবৈষম্যের শিকার হন। এক জরিপে দেখা গেছে, ৭০ ভাগ ব্ল্যাক আমেরিকান স্বীকার করেছে যে তারাও তাদের জীবনে এমন অভিজ্ঞতা অর্থাৎ বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়েছেন। 

মন্তব্যের ঘরে অনেকেই প্রশংসা এবং সাধুবাদ জানিয়েছেন নির্মাতাকে, এমন একটি কনসেপ্ট তুলে আনার জন্য। ট্রেলারের আভাস বলছে এটি বর্ণবৈষম্য নিয়ে। কেউ কেউ তাদের মন্তব্যেও সেই ধারণা ব্যক্ত করেছেন। একজন বলছেন, ‘আমি কনসেপ্টটি বুঝতে পেরেছি এবং এমন একটা প্রসঙ্গ নারীর নেতৃত্বে সিনেমা নির্মাণ কতটা প্রাসঙ্গিক সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে! শুধু বলতে চাই যে এই দেশের বেশিরভাগ নারীরা যখন বিদেশে পড়াশোনা করা নিয়ে ইতিমধ্যেই বেড়াজালের মধ্যে রয়েছে। আমি কনসেপ্টটির প্রশংসা করছি তবে এটি একজন পুরুষের নেতৃত্বে হলে ভালো হতো। আমি ভয় পাচ্ছি যে এটি বিবাহ ছাড়াই বিদেশে শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের যে কোনও অগ্রগতি কমিয়ে দেবে। যদিও মানুষজন আগেও এর বিরোধিতা করেছিল এবং এখন লিভারেজ রয়েছে।’

 

নির্মাতা শিহাব শাহীন

 

ফিল্মটি কি তবে বর্ণবৈষম্য নিয়ে? এ বিষয়ে নির্মাতা জানান, যারা ভিনদেশে থাকেন তাদেরকে নিয়ে আমরা একটা বাবল তৈরি করে রেখেছি যে, তারা সেখানে স্বর্গ সুখে আছেন। ইউরোপ আমেরিকা কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় আমরা যারা এশিয়ানরা থাকি তারা যে বর্ণবৈষম্যের শিকার হই- এই বিষয়টার কিছু এখানে দেখানোর চেষ্টা করেছি। তবে পুরো গল্প কি এটা নিয়ে নাকি অন্যদিকে মোড় নেয়- সেটা জানার জন্য কনটেন্ট দেখতে হবে।

বর্ণবৈষম্য যে শুধু ভিনদেশে হচ্ছে তা নয়, দেশেও ঘটছে অহরহ। ছেলে-মেয়ে, নারী-পুরুষ প্রত্যেকেই এমন ঘটনার শিকার হচ্ছেন তাদের কর্মক্ষেত্রে। শিহাব শাহীন বলেন, গল্পটা আমার নিজের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত, আমার মেয়ের সঙ্গে এরকম ঘটনা ঘটেছে। তবে ফিল্মে যা দেখানো হয়েছে সেরকম কিছু ঘটেনি। আমার মেয়ের গল্পের সঙ্গে নতুন কিছু যোগ করে এটাকে ফিকটিশাস করার চেষ্টা করেছি। 

গত ২৭ আগস্ট ‘বাবা, সামওয়ান ফলোয়িং মি’ ফিল্মের শুটিং শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানে টানা চারদিন শ্যুটের পর দেশে ফেরেন নির্মাতা ও তার টিম। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে শুটিং করার কথা থাকলেও হঠাৎ করে সেটি বাতিল হয়। প্রথমে ফিল্মটিতে বাবার চরিত্রে আফজাল হোসেনের কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি সেটি করতে পারেননি। এরপর তার চরিত্রে অভিনয় করেন শহীদু্জামান সেলিম। তার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন তাসনিয়া ফারিণ। এছাড়া আরও রয়েছেন ইরফান সাজ্জাদ, সোহেল মন্ডল, জন ক্রস (অস্ট্রেলিয়া) প্রমুখ। ২৩ নভেম্বর ওটিটি প্লাটফর্ম বিঞ্জে মুক্তি পাবে এটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত