নবান্ন উৎসব উপলক্ষে বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে ও জয়পুরহাটের কালাইয়ে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। কাকডাকা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মাছের মেলা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণে মুখরিত। মেলায় বাগাড়, বোয়াল, রুই, কাতলা, চিতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। মাছ ছাড়াও নতুন আলুসহ সবজি, মিষ্টান্নসহ শিশুদের খেলনার দোকানগুলোতে দিনব্যাপী কয়েক কোটি টাকার বেচাকেনা হয় মেলা উপলক্ষে। জয়পুরহাটের মেলা থেকে সেরা মাছ কিনে জামাইরা নিয়ে যান শ্বশুরবাড়িতে। তাই এ মেলাকে জামাই মেলাও বলা হয়ে থাকে।
বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে শনিবার ১ অগ্রহায়ণ। এ দিন বাঙালিরা নবান্ন উৎসব পালন করেন। নবান্ন উৎসব ঘিরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান, মোকামতলা, উথলী গ্রামে বসেছে মেলা। এ উপলক্ষে আশপাশের অর্ধশত গ্রামে উৎসবের আমেজ।
সকালে মহাস্থানে দেখা যায়, ফোর লেনের আন্ডারপাসের নিচে বসেছে মাছের মেলা। এখানে ২২ কেজি ওজনের বাগাড় মাছ নিয়ে এসেছেন এক বিক্রেতা। ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দাম চাইলেন তিনি। এ ছাড়া অন্যান্য মাছও রয়েছে এ মেলায়। তবে শিবগঞ্জের উথলি গ্রামের মেলায় বেশি ভিড় দেখা গেছে। শিবগঞ্জের উথলী গ্রামের বটতলায় শতাধিক দোকানে কেজি থেকে শুরু করে ১২ কেজি ওজনের বিভিন্ন জাতের মাছ দেখা গেছে। ১২ কেজি ওজনের বোয়াল ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি, ২ থেকে ১২ কেজি ওজনের রুই ৪০০ থেকে ১১০০ টাকা কেজি, চিতল ৪৫০ থেকে ৭০০ ও কাতলা ১ কেজি থেকে ১০ কেজি ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ৩০০-৪৫০ টাকা দরে পাঙাশ, ব্রিগেড ও সিলভার কার্প মাছ বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা লক্ষ্মীচরণ, আবদুল বাছে জানান, ‘প্রতিবছরই তারা এ মেলায় মাছ নিয়ে আসেন। মেলায় বিক্রি করতে তারা বিভিন্ন স্থান থেকে বড় বড় মাছ সংগ্রহ করে থাকেন। দামও বেশ ভালো পান বলে জানান।’
মাছ ক্রেতা আতিকুর রহমান ১১০০ টাকা কেজি দরে রুই মাছ কিনেছেন, যার ওজন সাড়ে ১১ কেজি। এ মাছটি মেলার সবচেয়ে বড় মাছ বলে জানান।
এদিকে মেলায় শুধু মাছ নয়, নতুন আলুসহ শাকসবজি বিক্রি হচ্ছে। ২০০ টাকা কেজি দরে নতুন আলু বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া মাছ আকৃতির মিষ্টিসহ বিভিন্ন মিষ্টান্ন, শিশুদের মাটির তৈরি খেলনাসহ মাটির তৈজসপত্র বিক্রি হচ্ছে মেলায়।
শিবগঞ্জ পৌর মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক বলেন, ‘প্রায় তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ মেলা উপলক্ষে পুরো শিবগঞ্জে উৎসবের আমেজ। ঘরে ঘরে নতুন জামাইসহ অতিথি এসেছেন। মেলার মাছ ও সবজি দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করা হবে।’
এদিকে প্রতিবছরের মতো এবারও নবান্ন উপলক্ষে জয়পুরহাটের কালাইয়ে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা এই এলাকার জামাই-মেয়ে, ইষ্টি-কুটুমরা আসেন এখানকার স্বজনদের বাড়ি বাড়ি। মেলাটি জামাইদের উপলক্ষে হলেও শুধু জামাই-ই নয়, ভোর থেকেই মেলায় ভিড় জমান ধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে নানা বয়সী মানুষ। পঞ্জিকা অনুসারে প্রতিবছর অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহে কালাই পৌর সদরের পাঁচশিরা বাজারে বসে মাছের মেলাটি। আর এ দিনটির অপেক্ষায় থাকেন এ উপজেলাসহ আশপাশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সর্বসাধারণ।
ক্রেতা-বিক্রেতা আর কৌতূহলী মানুষের ঢলে মেলাটি পরিণত হয় জনসমুদ্রে। সকাল থেকেই ক্রেতারা ভিড় জমান মাছের মেলায়। মেলায় শতাধিক মাছের দোকানে থরে থরে সাজানো হয় দেশীয় জাতের রুই, কাতলা, মৃগেল চিতল, বোয়াল, সিলভার কার্প, ব্রিগেড, পাঙাশ, বাগাড়সহ নানা ধরনের মাছ দিয়ে।
কালাই পৌর হাট কমিটির প্রতিনিধি মো. গোলাম আযম জানান, মেলায় নির্বিঘেœ মাছ কেনাবেচার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।