গাজায় যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ৫০ জিম্মির মুক্তি!

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৩, ০২:৫৯ এএম

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হাতে বন্দি থাকা কয়েক ডজন জিম্মির মুক্তির জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। গতকাল দিনভর এ নিয়ে নানামুখী কথা শোনা যায়। গতকাল রবিবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরাহমান আল-থানি জানান, চুক্তিতে বাধা প্রদানকারী বিষয়গুলো ‘খুব ছোটখাটো’। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট সর্বপ্রথম এ ধরনের একটি চুক্তি হওয়ার কথা জানায়।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালানোর পর হামাস প্রায় ২৪০ জনের মতো ইসরায়েলিকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে হামাস বেশ কয়েকজনকে ছেড়েও দেয়। তবে বড় পরিসরে এ নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। কাতারের রাজধানী দোহায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিদেশনীতি বিষয়ক প্রধান কূটনীতিক জোসেফ বরেলের সঙ্গে বৈঠক করেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী আল-থানি। বরেলকে পাশে নিয়ে গতকাল রাজধানী দোহায় তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে বাধা খুব ছোটখাটো। এতে কিছু ব্যবহারিক সমস্যা আর লজিস্টিকস সংক্রান্ত বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

কাতার এই চুক্তিতে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে রয়েছে। কাতার সব সময়ই হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে। তারাই এ চুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। তবে হোয়াইট হাউজ এ ধরনের কোনো অগ্রগতির কথা নাকচ করে দিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় কমপক্ষে ৫০ জন জিম্মির মুক্তির কথা চলছে। তাদের সিংহভাগই নারী ও শিশু। জিম্মিদের ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ইসরায়েল তিন দিনের যুদ্ধবিরতি দেবে। বিষয়গুলো নিয়ে ইসরায়েলের তরফ থেকে এখনো আলোচনা চলছে।

আল-থানি আরও বলেন, ‘এই চুক্তি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সময়ের সঙ্গে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি মনে করি, আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য বেশ কাছাকাছি রয়েছি, যা মানুষকে নিরাপদে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনবে।’

এই সম্ভাব্য অগ্রগতি নিয়ে হামাসের দিক থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত (জিম্মিদের মুক্তি) কোনো চুক্তি হয়নি। কিন্তু আমি অঙ্গীকার করতে চাই, যখন বলার মতো কিছু আসবে, আমিই জানাব।’

ফিলিস্তিনের সর্বশেষ : গাজার প্রধান স্বাস্থ্যকেন্দ্র আল-শিফা হাসপাতাল থেকে ৩১টি অপরিপক্ব শিশুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি হামলার মুখে হাসপাতালটি এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হাসপাতালটিকে মৃত্যুপুরি আখ্যা দিয়েছে।

এদিকে গাজার নুসেরাত এবং আরও একটি আশ্রয়শিবিরে ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে ৩১ জন নিহত এবং আহত হয়েছে অনেকে। হতাহতদের মধ্যে দুজন সাংবাদিকও রয়েছেন। গাজা যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা গতকালই ১২ হাজার অতিক্রম করেছে।

এদিকে জাতিসংঘ গতকাল জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় পশ্চিম তীরে ১৯৮ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ জনই শিশু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত