যুদ্ধবিরতির আলোচনা আর গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ উভয়ই একসঙ্গে চালাচ্ছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। অন্যদিকে হামাসকে নির্মূলের কথা বলে গাজা উপত্যকায় নির্বিচারে চালানো গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। গতকাল সোমবার থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতাল ঘিরে রাখে, যেখানে তাদের চালানো বিমান হামলায় নিহত হয় কমপক্ষে ১২ জন। যুদ্ধের মধ্যেই বন্ধ হওয়া হাসপাতাল থেকে গতকাল ২৮টি অপরিপক্ব শিশুকে রাফাহ ক্রসিং দিয়ে মিসরে নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সূত্র ধরে কয়েকটি গণমাধ্যমে বলা হয়, কয়েক ডজন জিম্মিকে হামাসের হাত থেকে মুক্ত করতে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মিকাইল হারজগ একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, চলতি সপ্তাহে চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলি জিম্মিদের অনেককে মুক্ত করার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এই আলোচনায় শর্ত হিসেবে হামাসের যুদ্ধবিরতির দাবি রয়েছে। গত রবিবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরাহমান আল-থানি জানান, তার দেশের মধ্যস্থতায় হওয়া সম্ভাব্য চুক্তির সামনে খুব ছোটখাটো কিছু বাধা রয়েছে। গতকাল আবারও জানা যায়, চুক্তির বেশ কাছে রয়েছে পক্ষগুলো।
হামাস ও গাজাবাসীর সূত্র ধরে আরও জানা যায়, এখন উত্তর গাজার নগরাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে গেরিলা পদ্ধতির যুদ্ধকৌশল প্রয়োগ করছে হামাস। একইভাবে জাবালিয়া ও বিচ শরণার্থীশিবিরেও গেরিলা আক্রমণ চালাচ্ছে হামাস। সমানতালে চলছে স্থলযুদ্ধও।
গাজায় হামাসনিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় গতকাল পর্যন্ত নিহত হয়েছে ১৩ হাজারের মতো ফিলিস্তিনি। এর মধ্যে নিহত শিশুর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৫০০ জনের মতো।
সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, ২০১৯ সালের পর বিশ্বে অন্যান্য সংঘাতে যত শিশু মারা গেছে, তার তুলনায় গাজার চলতি সংঘাতে বেশি শিশু মারা গেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘আমরা এমনি একটি বেসামরিক সাধারণ নাগরিক হত্যা প্রত্যক্ষ করছি, যেখানে আমি মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্বের কোথাও এমন তুলনাহীন ও নজিরবিহীন হত্যালীলা হয়নি।’
গাজায় মানবিক বিপর্যয় থামাতে বিশ্বকে আহ্বান জানাল চীন
গাজার ‘মানবিক বিপর্যয়’ থামাতে বিশ্বকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। গতকাল রাজধানী বেইজিংয়ে আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। এ সময় ফিলিস্তিন, ইন্দোনেশিয়া, মিসর, সৌদি আরব ও জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে যোগ দেন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মহাসচিবও।
সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে ওয়াং বলেন, ‘দ্রুত গাজা পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য এবং দ্রুততার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে আসুন আমরা একসঙ্গে বসে আলোচনা করি। বিশ্বের সব দেশে গাজা পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে। সংঘাত যেন ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।’
