বিএনপির সমমনা কল্যাণ পার্টির নতুন জোট নির্বাচনে যাচ্ছে

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৩, ০২:১৫ এএম

বিএনপি শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও যুগপৎ আন্দোলনে থাকা নিবন্ধিত দুটি দল ভোটে অংশ নিতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে নতুন একটি নির্বাচনী জোট গঠন করা হচ্ছে। যেখানে যুগপৎভুক্ত ১২ দলীয় জোটের শরিক নিবন্ধিত বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) সঙ্গে যুগপতের বাইরে থাকা নিবন্ধিত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিও (মতিন) থাকছে। এ ছাড়া নতুন এই জোটে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা আরও ৭-৮টি অনিবন্ধিত দল যুক্ত হতে পারে। আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কল্যাণ পার্টির নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচনী জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে জোটের ব্যানারে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে চরম দুঃসময়ে যুগপতের নিবন্ধিত দুই মিত্রকে হারাতে যাচ্ছে বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব আবদুল্লাহ আল হাসান সাকিব সাংবাদিকদের বলেন, কল্যাণ পার্টির নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট নামে নতুন একটি জোটের আত্মপ্রকাশ হবে। এই জোটের মাধ্যমে তিনটি নিবন্ধিত দলসহ বিএনপির নেতৃত্বে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে থাকা অনিবন্ধিত আরও কয়েকটি দলও নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেবে। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি জানান, নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণ অধিকার পরিষদ, ১২ দলীয় জোটের শরিক তাসমিয়া প্রধানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিও (জাগপা) এই জোটে থাকতে পারে।

এ প্রসঙ্গে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আব্দুল আউয়াল মামুন বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির নেতৃত্বে নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। সেখান থেকে আমরা আন্দোলনের একটি নতুন রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করব।’

তবে গণ অধিকার পরিষদ ও জাগপা নতুন এই নির্বাচনী জোটে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে গণ অধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘হালুয়া রুটির আসন ভাগাভাগিতে আমরা নেই। আমরা এই সরকারের অধীনে পাতানো নির্বাচনে যাব না।’ একই ধরনের কথা বলেন জাগপার সভানেত্রী ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান।

মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (বীর প্রতীক) ও আব্দুল আউয়াল মামুনের নেতৃত্বাধীন কল্যাণ পার্টির প্রতীক হাতঘড়ি; অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী ও মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) প্রতীক হাত (পাঞ্জা) এবং অধ্যাপক ডা. এম এ মুকিত ও এএনএম সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতীক ‘কাঁঠাল’।

গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ১০ দফার ভিত্তিতে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। এরপর গত ১২ জুলাই থেকে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে দলটি। ৪২টির মতো দল এই যুগপৎ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপিসহ আটটি নিবন্ধিত দল রয়েছে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করেই ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে যুগপতের শরিকদের। তবে বেশ কিছুদিন ধরে যুগপতের নিবন্ধিত একাধিক দল বিএনপিকে ছেড়ে নির্বাচন যেতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন শুরু হয়। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারি চাপ এবং সংসদ সদস্য হওয়ার প্রলোভনে পা না দিতে বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় যুগপৎ শরিকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্বাসঘাতকদের পরিণতি ভালো হয় না বলেও সতর্ক করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত এই গুঞ্জন সত্যি হতে যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত