বগুড়ার তিন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির সাবেক তিন নেতা

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৩, ০২:২৫ পিএম

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন বগুড়ার বিএনপির সাবেক তিন নেতা।

তারা হলেন বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসন থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও আলোচিত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শোকরানা, বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসন থেকে সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সরকার বাদল এবং বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বিউটি বেগম।

তাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা নির্বাচন অফিসার মাহমুদ হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে বগুড়া-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ শোকরানা। ২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে দলের সকল পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই নেতা।

আরও জানা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাকালে বগুড়ার নেতৃত্বে ছিলেন শোকরানা। ১৯৯৯ সালে তারেক রহমানের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বহুল আলোচিত ডাল কেলেঙ্কারি ও ত্রাণের কম্বল মজুত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। একই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি যৌথ বাহিনী শোকরানার ১৫টি গুদাম থেকে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন (১৮ হাজার বস্তা) মসুর ডাল ও বিপুল পরিমাণ ত্রাণের কম্বল জব্দ করে। ওই সময় তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়। সেই মামলটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলাটির বিচারকাজ শুরু হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালের ২১ নভেম্বর সেই মামলা প্রত্যাহার করা হয়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে শোকরানা বলেন, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কারচুপি করবে না। কারণ, বিএনপি যেহেতু নির্বাচনে আসছে না। ভোটগ্রহণ স্বচ্ছ হবে। তবে বিএনপি নির্বাচনে এলে কারচুপি হতে পারে বলে এবং তখন বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলেও জানান তিনি।

আলোচিত ডাল ও কম্বলের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, দুঃস্থদের বিতরণের জন্য তারেক রহমান নিজের টাকায় কম্বলগুলো কিনেছিলেন, ত্রাণের ছিল না। বিদেশ থেকে ১৬ কোটি টাকার ডাল আমদানি করে গুদামে রেখেছিলাম। যৌথ বাহিনী ভুল বুঝেই কম্বল ও ডাল জব্দ করে।

এদিকে বগুড়া-৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সরকার বাদল নব্বইয়ের দশকে বিএনপিতে যোগ দেন ও ২০০৩ সালে তিনি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হন। পরে সদর উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে শাজাহানপুর উপজেলা গঠিত হলে ২০১৪ সালে বিএনপির সমর্থনে শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে পাননি তিনি। সর্বশেষ ২০২২ সালে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সরকার বাদল বলেন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও কিছু নেতার কারণে তিনি দলে কোণঠাসা। কোনো দলের হয়ে নয় বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে তৃণমূল বিএনপির (বিএনএম) হয়ে নির্বাচন করার প্রস্তাব রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বিউটি বেগম বগুড়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০১৪ সালে দলের সমর্থনে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। ফলে ২০১৯ সালের ৩ মার্চ তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বিউটি বেগম বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই জাতীয় নির্বাচনে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অনেক দল থেকেই যোগাযোগ করা হচ্ছে, দেখা যাক, সময় বলে দেবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও নির্বাচনের তফসিল বাতিলের দাবিতে এক দফার আন্দোলন চলছে। তাই ঘোষিত নির্বাচন তফসিলের বিরুদ্ধে ও বর্তমান সরকারের অধীন কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা মনোনয়নপত্র তুলেছেন বা তুলবেন, তারা দলের কেউ নন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত