বিএনপির বিবৃতি

রাশিয়ার বক্তব্য গণতন্ত্রকামী মানুষের অনুভূতিতে আঘাত

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:৪০ এএম

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এফএমএ) মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সমালোচনা করে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে বিএনপি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। এফএমএ মুখপাত্রের মন্তব্য একটি স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের জনগণের আকাক্সক্ষা ও অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

২২ নভেম্বর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস সরকারবিরোধী মহাসমাবেশ আয়োজনে বিরোধী দলের সঙ্গে পরিকল্পনা করেছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন মারিয়া জাখারোভা। তার বার্তাটি ঢাকার রাশিয়ান দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে রাশিয়ার মুখপাত্রের বক্তব্যকে ভ্রান্ত ও অপব্যাখ্যা। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কলঙ্কিত ইতিহাস তৈরি করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারকে রাষ্ট্রক্ষমতায় রেখে বাংলাদেশে কোনো অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।’

এতে বলা হয়, ‘শান্তিপূর্ণ ও অহিংস কর্মসূচিগুলোয় জনগণের নৈতিক সমর্থন রয়েছে। বিএনপির সমাবেশ আয়োজনে কোনো বিদেশি কূটনীতিক সহায়তা করেছেন, এমন অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত অভিযোগ আগে উত্থাপিত হয়নি। এ ধরনের বাস্তবতা-বিবর্জিত বক্তব্য বাংলাদেশের জনগণের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আকাক্সক্ষার বিরোধী বলে প্রতীয়মান হয়। কার্যত মিস জাখারোভার দৃষ্টিভঙ্গি গণতন্ত্রকামী জনগণের স্পৃহাকে অবমূল্যায়নের মাধ্যমে দুর্নীতিগ্রস্ত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনব্যবস্থাকেই সমর্থন করে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিগত কয়েক মাস ধরে রাজধানী ঢাকা, সব বিভাগীয় শহর তথা বাংলাদেশ জুড়ে আমাদের সব কর্মসূচিতে ধারাবাহিকভাবে বিপুল উপস্থিতি ও জনসমাগম হয়েছে। বিএনপির ডাকে সাড়া দিয়ে প্রতিটি সমাবেশে সরকারের বহুমাত্রিক প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে প্রতিহত করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। কোনো একটি রাজনৈতিক দলের আহ্বানে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের এই বিপুল বিস্তৃত উপস্থিতি ইতিহাসে নজিরবিহীন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত