পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় এলাকায় এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকরা। কিন্তু হঠাৎ আবহাওয়া অফিসের দুঃসংবাদে আতঙ্ক বিরাজ করছে উপকূলের কৃষকদের মধ্যে। ‘বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপটি রূপ নিয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে’ এমন সংবাদে এখন ধান কাটা, মাড়াই দেওয়া এবং ধান ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার হাজারো কৃষক।
গত বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটতে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কেউ কাটাচ্ছেন মেশিনের মাধ্যমে, কেউ আবার কাটাচ্ছেন মানুষ দিয়ে। অনেকে আবার জমিতে বসেই বিক্রি করে দিচ্ছেন ধান। ধান কাটার এত সব তারাহুড়ো সবই সমুদ্রে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে।
কুয়াকাটা এলাকার কৃষক আবদুল মন্নান গাজী বলেন, ‘কিছুদিন আগের ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষেতের অনেক ধানের ক্ষতি হয়ে গেছে। এখন আবার ঘুর্ণিঝড় আসতেছে শুনে তড়িঘড়ি করে ধান কাটতেছি, যাতে আমাদের কষ্টের ধান নষ্ট না হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ১২ জন মিলে প্রায় দুই থেকে আড়াই কুড়া ধান কেটেছি। ২৬ কুড়ার ধান কাটমু, আর আগে-ভাগে ধান কেটে বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যায়।’
একই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার, লতাচাপলী, মহিপুর, নীলগঞ্জ, ধুলাসর, ধানখালী, চম্পাপুর, টিয়াখালী, ডালবুগঞ্জসহ পুরো উপকূলে। ধান কাটা, মাড়াই করা এমনকি বেচা-বিক্রিও শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই রয়েছেন নিম্নচাপ আতঙ্কে এমনটাই বলছিলেন সবাই।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও আরও ঘনীভূত হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নভেম্বর সাইক্লোনপ্রবণ মাস। জলবায়ুগত কারণে এই লঘুচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইতিমধ্যে পুরো উপজেলায় ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। আমরা আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি ধান কেটে ঘরে নেওয়ার জন্য। তবে এখনো অনেক জায়গায় ধান পুরোপুরি পাকেনি। আবহাওয়া খারাপ হলে এই সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে কৃষকদের। তাই পুরো উপজেলায় ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
