যুদ্ধে সাময়িক বিরতির আগে দেড় মাসে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজার উত্তর অংশ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিরতির পর এবার বোমা হামলা ও স্থল অভিযানের মাধ্যমে দক্ষিণ গাজা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে দেশটি।
জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার এক বিবৃতিতে বলেছেন, দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ গুরুতর উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গাজার উত্তরে যা ঘটেছে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সত্যিই একটি শক্তিশালী বার্তা এসেছে। সেখানকার লোকজন ভয়ংকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতি দক্ষিণাঞ্চলে ঘটতে দেওয়া উচিত নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি আরও জানান যে, গাজায় আনুমানিক প্রতি ১০ মিনিট পর পরই বোমা ফেলছে ইসরায়েল।
জেমস এলডার বলেন, দক্ষিণ গাজার লোকজনের জন্য এ বিপদ আরও বেশি উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যখন আপনি বোমা বর্ষণের কারণে তিন থেকে চারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এমন পরিস্থিতি লোকজন সত্যিই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তারা তাদের সন্তানদের একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করছেন কিন্তু তাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
তিনি বলেন, যখন আমি দেখি শিশুরা আর্তনাদ করছে। বাবা-মা একের পর এক যুদ্ধের ভয়ংকর ক্ষত নিয়ে স্ট্রেচারে চিৎকার করছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা তারা এভাবে পার করছে। কিন্তু তারা হাসপাতাল বা আশ্রয়কেন্দ্রেও নিরাপদ নয়। এটা সত্যিই উদ্বেগজনক।
জেমস এলডার বলেন, "আমি এখানে নিরাপদ বোধ করার কোন উপায় দেখছি না। অন্য কেউ এখানে নিরাপদ বোধ করে না।"
তিন দিন ভারী বোমা হামলার পর গাজার দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি সৈন্যরা। সোমবার সকাল থেকে খান ইউনিসের উত্তরে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি স্থল বাহিনী।
পাবলিক কান রেডিও জানিয়েছে যে যুদ্ধবিরতির পর বেশীরভাগ ইসরায়েলি বিমান হামলার লক্ষ্য ছিল খান ইউনিস, ইসরায়েলের ধারণা হামাসের প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং সামরিক শাখার নেতা মোহাম্মদ দেইফসহ হামাসের শীর্ষ নেতারা গাজার দক্ষিণাঞ্চলে লুকিয়ে আছেন।
এমনকি কিছু ইসরায়েলি জিম্মিকেও এই অঞ্চলে রাখা হয়েছে বলে বিশ্বাস করে ইসরায়েল।
