পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ফল

কংগ্রেসের একলা চলো নীতিতে ‘ইনডিয়া’ ক্ষুব্ধ

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:০১ এএম

ভারতের মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড় বিধানসভা নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দেশটির বিরোধী দলগুলোর জোটে মতভেদ তুঙ্গে উঠেছে। আগামী বছরের লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস তিন রাজ্যে যেভাবে ‘একলা চলো’ নীতিতে এগিয়েছে, তাই-ই এখন কাঠগড়ায়। অনেক শরিক দল সরাসরি অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস তিন রাজ্যে নবগঠিত জোটের মিত্রদের গুরুত্ব দেয়নি যার ফলে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়কে আটকানো যায়নি।  

গত রবিবার চার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে দেখা যায়, একমাত্র তেলেঙ্গানা ছাড়া বাকি তিন রাজ্যের কোথাও পায়ের তলায় মাটি পায়নি কংগ্রেস। বিজেপি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আবার গতকাল সোমবার ঘোষিত মিজোরাম বিধানসভা নির্বাচনের ফলও কংগ্রেসের অনুকূলে যায়নি। তা ছাড়া তেলেঙ্গানা ও মিজোরামের নির্বাচনের দিকে মানুষের নজর ছিল কম, কারণ এসব জায়গায় কংগ্রেসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল আঞ্চলিক দলগুলো। আর ওই তিন রাজ্যে বিজেপির সঙ্গে সরাসরি টক্কর হয়েছে এবং সেখানেই কংগ্রেস বিপুল ব্যবধানে হেরেছে।

সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় প্রধান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, নির্বাচনে ‘কংগ্রেসের পরাজয় হয়েছে, মানুষের নয়।’ কয়েক মাস আগে ভারতের ২৮টি বিজেপিবিরোধী দল ‘ইন্ডিয়ান ন্য্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স (ইনডিয়া)’ গঠন করে যার অন্যতম শরিক মমতার দল। পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগে থেকেই কংগ্রেস জোট থেকে দূরত্ব তৈরি করে। জোটের অন্যতম শরিক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (আপ), উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি (এসপি), ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্কসবাদী (সিপিআইএম) এবং আরও বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে কোনো ধরনের আসন সমঝোতা না করে একলা পথে হেঁটেছে কংগ্রেস। এমন অনেক আসন পাওয়া গেছে যেখানে ইনডিয়াভুক্ত একাধিক দল আলাদাভাবে লড়াই করেছে যা বিজেপির একক প্রার্থীকে সুবিধা করে দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে এসপির উল্লেখযোগ্য ভোট ব্যাংক রয়েছে যা আমলে নেয়নি কংগ্রেস। শেষমেশ প্রচারসভা থেকে অখিলেশ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইনডিয়ায় এসপির অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করবেন তিনি।   

ইনডিয়ার জোটসঙ্গী ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ কোনো রাখঢাক না করেই বলেছেন, ‘এভাবেই যদি ভবিষ্যতেও চলা হয়, তাহলে লোকসভায় জোট জিততে পারবে না।’ কংগ্রেস অবশ্য মুখরক্ষা করতে আগামীকাল জোটের বৈঠক ডেকেছে। এ নিয়েও কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, এটা ভালো যে, তিন মাস পর তাদের জোটের কথা মনে পড়েছে।  

ইনডিয়ার আরেক শরিক বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত জনতা দলের (জেডিইউ) জ্যেষ্ঠ নেতা কেসি তিয়াগি বলেন, ‘ইনডিয়াকে কংগ্রেস এড়িয়ে চলেছে, কিন্তু নিজের ক্ষমতায় জিততে পারল না।’ চড়া সুরে কথা বলেছেন সিপিআইম নেতা কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ান। তিনি বলেন, ‘যখন বিজেপির মতো ভয়ংকর শক্তিকে হিন্দিভাষী তিন রাজ্যের শক্ত ঘাঁটিতে মোকাবিলা করতে হয়, তখন শক্তিশালী ঐক্য প্রয়োজন ছিল। তা না করে কংগ্রেস আগেই ধরে নিয়েছে যে, তারা জিতে গেছে।’ তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র কুনাল ঘোষের ভাষায়, ‘এটি যতটা বিজেপির জয়ের গল্প, তার চেয়েও বেশি কংগ্রেসের ব্যর্থতার।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত