বিপ্লবীদের প্রতিবিপ্লবী বোন

  • ‘ফিদেল অ্যান্ড রাউল, মাই ব্রাদার্স’ শিরোনামে একটি বই আছে জুয়ানিতা ক্যাস্ত্রোর
  • ১৯৬১ সালে মেক্সিকো সফরকালে কিউবায় নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী তাকে সিআইএ’র সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন
  • গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে মারা যান জুয়ানিতা
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:২৫ পিএম

টিনজাত পণ্যের কৌটায় কিউবার প্রতিবিপ্লবীদের কাছে বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও অর্থের লেনদেন করত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। কখনো বলরুমের মনোমুগ্ধকর নাচের মুদ্রা, কখনও-বা ক্ষুদ্রতরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বেতারতরঙ্গ কিংবা মাদামা বাটারফ্লাই থিয়েটারের গানের ছন্দেও মিশে থাকত গোপন তথ্য। 

আর মার্কিন প্রশাসনের এসব তৎপরতার কেন্দ্রে ছিলেন কিউবা বিপ্লবের নায়ক ফিদেল ক্যাস্ত্রোরই বোন জুয়ানিতা ক্যাস্ত্রো। এই বিপ্লবের দুই প্রধান নেতা ফিদেল ও রাহুল ক্যাস্ত্রোর বোন জুয়ানিতার রোমাঞ্চকর গুপ্তচরবৃত্তির গল্প অনেকেরই জানা। সিআইএ’র এজেন্ট হয়ে কাজ করা জুয়ানিতা গত সোমবার ৯০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৬০ বছর আগে ফ্লোরিডায় পালিয়ে আসা জুয়ানিতা ২০০৯ সালে সাংবাদিক মারিয়া আন্তোনিয়েতা কলিন্সের সহযোগিতায় ‘ফিদেল অ্যান্ড রাউল, মাই ব্রাদার্স’ শিরোনামে একটি বই লেখেন। এতে সিআইএ’র হয়ে তার ভূমিকা প্রথম সামনে আসে। বইতে তিনি বলেন, স্বৈরশাসক ফুলজেনসিও বাসিস্তার শাসন উৎখাতের পক্ষপাতী হলেও তিনি কমিউনিস্ট শাসন চাননি। 

ফিদেল ও রাউলের শাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সবসময়ই সোচ্চার। অবশ্য তাকে কিউবাত্যাগী প্রতিবিপ্লবীরা দীর্ঘকাল কমিউনিস্ট সরকারের গুপ্তচরই ভেবেছিল।

জুয়ানিতা বইতে লেখেন, ১৯৬১ সালে মার্কিন অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় কিউবার প্রতিবিপ্লবীরা যে ‘বে অব পিগস’ আক্রমণ চালায় তার পরই সিআইএ’র সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। ১৯৬১ সালে মেক্সিকো সফরকালে কিউবাতে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী তাকে সিআইএ’র সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। 

১৯৬৩ সালে ক্যাস্ত্রো ভাই-বোনদের মা মারা যান। জুয়ানিতার ভাষ্য, এরপর থেকেই ভাইদের সঙ্গে জটিলতা বেড়ে যায়। পরের বছর রাউল তাকে মেক্সিকোর ভিসা জোগাড় করে দেন। ওই-ই শেষ, এরপর আর কখনো ভাইদের মুখ দেখেননি তিনি।

মেক্সিকোতে এসে তিনি সাংবাদিকদের সামনে বলেন, ‘আমার ভাই ফিদেল ও রাউল জলভাগ দ্বারা বেষ্টিত অঞ্চলটিকে একটি বিশালকার কারাগারে পরিণত করেছেন। আন্তর্জাতিক কমিউনিজম দ্বারা আরোপিত নিপীড়ন মানুষকে বিদ্ধ করছে।’

মিয়ামিতে ব্যবসায় নামেন জুয়ানিতা এবং ১৯৮৪ সালে মার্কিন নাগরিকত্বও পেয়ে যান। কিউবান-আমেরিকানদের মধ্যে তিনি বেশ সম্মাানিত একজন ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত