একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, যেকোনো যুদ্ধে নারীরা সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেন। কিন্তু তাদের সেই ত্যাগের কথা কখনো স্বীকৃতি পায় না। কেননা আমাদের ইতিহাস সবসময় পুরুষতান্ত্রিক। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ’ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও জেনোসাইড বক্তৃতামালা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের গবেষণা ও গ্রন্থাগার বিভাগের ব্যবস্থাপক ড. রেজিনা বেগম।
শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘১৯৯২ সালে গণ আদালতে কুষ্টিয়া থেকে তিনজন বীরঙ্গনা নারী এসেছিলেন। যুদ্ধকালে নির্যাতনের বর্ণনা দিতে এসেছিলেন তারা। পরে তাদের স্বপক্ষে কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে গ্রামে তাদের একঘরে করে রাখা হয়। তাদের একজনের সঙ্গে কথা বললে জানায়, তার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি থেকে পাঠিয়ে দিয়েছে এ ঘটনার পর। অন্যজন জানায়, তার ছেলেকে রাইস মিল থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন বলেন, ‘প্রান্তিক নারীদের কথা আমাদের গবেষণায় সে রকম করে আসেনি। পাকিস্তানিরা যতটা আমাদের সমাজের উচ্চ শ্রেণির নারীদের ওপর অত্যাচার করেছে তার চেয়ে তীব্র গতিতে প্রান্তিক নারীদের ওপর আক্রমণ করেছে। প্রান্তিক নারীদের কথা আমাদের গবেষণায় আরও বেশি করে উঠিয়ে আনতে হবে।’
মূল প্রবন্ধে ড. রেজিনা বেগম বলেন, বাঙালি নারী তার সংগ্রামী ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকে সম্পৃক্ত। সত্তরের নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ না হলেও সাতজন নারী সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত হন। ২৫ মার্চের পর সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রাম শুরু হলে সেই সংগ্রামের সশস্ত্র পর্বে নারীর অংশগ্রহণ কিছুটা সীমিত আকারে হয়, কারণ হিসেবে দেখা যায় পিতৃতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোয় নীতিগত সিদ্ধান্তের অভাব, অস্ত্রের অভাব। তা সত্ত্বেও দেখা যায় দেশের অভ্যন্তরে আঞ্চলিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কিছু নারী সরাসরি সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িত হন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন। অনুষ্ঠানে এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, প্রজন্ম একাত্তরের প্রতিষ্ঠাতা সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদ কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পারভীন জলী।
