ভুট্টোর মৃত্যুদন্ডাদেশ খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৩৬ পিএম

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো হত্যা মামলার শুনানি আবার শুরু করতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট আলাদা বেঞ্চ গঠন করেছে। আগামী ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দেশটির প্রধান বিচারপতি কাজি ফায়েজ ইসার নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের বেঞ্চ জুলফিকার আলী ভুট্টো হত্যা মামলা ফের খতিয়ে দেখতে শুরু করবে।

জুলফিকার আলি ভুট্টোর কন্যা বেনজির ভুট্টোর স্বামী পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এই শুনানির আবেদন করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো দলের নেতাকর্মী ও আইনি পরামর্শকদের সঙ্গে কথা বলেন। যে বিচারে জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল তা আবার পর্যালোচনার আবেদন দাখিল করেন পাকিস্তানের আসিফ আলী জারদারি। ২০১১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে সুপ্রিম  কোর্টে প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্সের আওতায় এ আবেদন জানিয়েছিলেন আসিফ। পাকিস্তানের ভুট্টো পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। পিপলস পার্টি অব পাকিস্তান (পিপিপি) তাদের পারিবারিক প্রভাবে থাকা দল। পিপিপি থেকে নির্বাচিত হয়ে বেনজির প্রধানমন্ত্রীও হন। তিনি ২০০৭ সালে আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান।

১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডির জেলা কারাগারে জুলফিকার আলী ভুট্টোর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিলেন তৎকালীন সামরিক শাসক মোহাম্মদ জিয়া-উল-হক। এর আগে ১৯৭৭ সালের ৫ জুলাই জুলফিকার ভুট্টোকে ক্ষমতাচ্যুত করে পাকিস্তানের তখনকার সেনাপ্রধান জিয়া-উল-হকের বাহিনী। সামরিক সরকার বিরোধী নেতাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ভুট্টোকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

ওই বিচারকে প্রহসনের বিচার হিসেবে দেখে ভুট্টো পরিবার। এ বছর ৪ এপ্রিল ভুট্টোর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার নাতি ও বর্তমানে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়াম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, ‘এটা ছিল বিচার বিভাগীয় হত্যাকাণ্ড, যা দেশের বিচার ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছিল। এখন ভুট্টো পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম সুপ্রিম কোর্টে ভুট্টো হত্যার সুবিচারের অপেক্ষায় আছে।’

এবার আসিফ আলী জারদারির সেই আবেদনের ১২ বছর পর শুরু হতে যাওয়া শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট খতিয়ে দেখবে জুলফিকার আলী ভুট্টোর ফাঁসি আদৌ ‘বিচারবিভাগীয় হত্যাকাণ্ড’ ছিল কি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত