মোবাইল চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তিনজনের নাম আসে, গ্রেপ্তার হয় তারাও। তবে মামলার তদন্ত শেষে অন্যতম অভিযুক্তকে অব্যাহতির আবদার করে বসে থানার তদন্ত কর্মকর্তা। ওই আসামির নাম বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দিলে আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকায় তাদের একটি দল প্রতিদিনের মতো টহল ডিউটি করছিলো। দলটি বড়বাগস্থ আজমত গার্মেন্টসের সামনে অবস্থানকালে তাদের দেখে দুজন ব্যাক্তি পালানোর চেষ্টা করে। মো. রোমন মিয়া (৩২) ও মো. শফিকুল ইসলাম (৩৪) নামে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে তারা।
এসময় তাদের কাছ থেকে ১২টি মোবাইল পায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা টহল পুলিশকে জানায়, বিভিন্ন বাসা থেকে চুরি ও চোরাইকৃত মোবাইল ক্রয় করেন তারা। পরে এসব মোবাইল মিরপুর-১০ বেলাল ম্যানশনের এয়ারটেল টেলিকম নামে একটি দোকানে বিক্রি করেন। ওই দোকানে এসব মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে অনলাইনে বিক্রি করে।
ওই দুই যুবকের এমন তথ্যে বেলাল ম্যানশনের দোকান থেকে আরও দুজনকে আটক করে পুলিশ। তারা হলেন, দোকানের কর্মচারী মো. মামুন বালী (৩২) ও মো. সাইফুল হাসান আবির (১৯)। এসময় ৩০টি মোবাইল ও আইএমইআই পরিবর্তনে ব্যবহার করা কম্পিউটারসহ অন্যন্য সড়ঞ্জাম জব্দ করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা করে। পরে গ্রেপ্তার সাইফুলের আদালতে দেয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে এয়ারটেল টেলিকম দোকানের মালিক মামুন রাড়ীকে (৩৭) গ্রেপ্তার করে মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. সাইফুল আলম।
মামুন রাড়ী চোরাই মোবাইলের ব্যবসা করতেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার যথাযথ প্রমাণ মেলে এরপরও তাকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে অভিযোগপত্র দেন মামলাটির দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম।
পিবিআই বলছে, মামুন রাড়ী দোকানের মালিক, তিনি দোকানে পরিচালনা করতেন এবং দোকানের যাবতীয় মালামাল তারই কেনা। তাই তাকে ছাড়া কর্মচারীদের পক্ষে কোন মালামাল কেনা বা ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব না। দুই আসামি মামুন বালী ও সাইফুল ইসলাম তার জ্ঞাতস্বারেই আইএমইআই পরিবর্তন করে দোকানে ও অনলাইন মাধ্যমে মোবাইল বিক্রি করতো। এছাড়াও দোকানে আইএমইআই পরিবর্তনের সফটওয়্যারসহ এ সংক্রান্ত অন্য প্রমাণ ছাড়াও বিপুল পরিমাণ চোরাই মোবাইল পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই মামলার দায়ে এড়াতে পারে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিবিআইয়ের পরিদর্শক এ কে এম নাসির উল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, মামলাটির তদন্তে বেলাল ম্যানশনের এয়ারটেল টেলিকমের মালিকের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ হয়েছে। তাকেসহ এজাহারনামীয় চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছি আমরা। আগের তদন্ত কর্মকর্তা কেন তাকে অব্যহতির আবেদন করেছিলো এ বিষয়ে তারা বলতে পারবেন।
পরে কথা হয় মামলাটির দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক শহিদুল আলমের সাথে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে ওই আসামিকে বাদ দেয়ার আবেদন জানিয়ে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছিলো।