‘অনৈতিক’ রুয়ান্ডা পরিকল্পনা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:০০ পিএম

ব্রিটেনে অভিবাসনের উদ্দেশ্যে যাওয়া মানুষদের আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডায় পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা চলছে ব্রিটিশ রাজনীতিতে। ‘অদ্ভুত পরিকল্পনাটি’ নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে চলছে নানা বিতর্ক। তবে যাবতীয় বিতর্ক পাশ কাটিয়ে অভিবাসন-প্রত্যাশীদের রুয়ান্ডাতে পাঠিয়ে দেওয়ার এই পরিকল্পনা ব্রিটিশ আইনসভার নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে ৩১৩-২৬৯ ভোটে পাস হয়েছে। কনজারভেটিভ নেতা ঋষি সুনাকের জন্য এটি স্বস্তিরই বলা যায়। কারণ তিনি এ নিয়ে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন।

রুয়ান্ডা পরিকল্পনা পাস হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক লিখেছেন, ‘ব্রিটিশ নাগরিকরাই ঠিক করবেন, দেশে কারা আসবেন, আর কারা আসবেন না। কোনো অপরাধী চক্র বা বিদেশি কোর্ট এটা ঠিক করতে পারে না।’

ঋষি সুনাকের জন্য রুয়ান্ডা পরিকল্পনা নিয়ে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামা ঝুঁকিপূর্ণই ছিল। কারণ নিজ দলের একাংশের বিরোধিতা এবং বিরোধী দল লেবার পার্টির বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছেন। আর যদি ব্যর্থ হতেন, তবে তাকে নির্ঘাত প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে বিদায় নিতে হতো।

রুয়ান্ডা পরিকল্পনার পক্ষে ভোট দাবি করে সুনাক লেখেন, ‘অভিবাসীদের নৌকাগুলোকে থামানোর জন্য আমাদের এই বিল পাস করাটা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলেছে, ‘এই পরিকল্পনা কার্যকরই করা যাবে না। তাছাড়া গোটা পরিকল্পনাই অনৈতিক। অবিবাসন প্রত্যাশীদের সাড়ে ছয় হাজার কিলোমিটার দূরের রুয়ান্ডাতে পাঠানো মেনে নেওয়া যায় না। গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, রুয়ান্ডাকে কখনই নিরাপদ দেশ বলা যায় না।’

যুক্তরাজ্যের অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান সাচা দেশমুখ বলেছেন, ‘এই পরিকল্পনা মানবাধিকারের ধারণাকেই আক্রমণ করেছে।’

রুয়ান্ডা পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ব্রিটেন থেকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের পূর্ব আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডাতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তারা সেখানেই বসবাস করবেন। যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যেই তিন হাজার তিনশ কোটি টাকা রুয়ান্ডাকে দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের দাবি, এই নিয়ম চালু হলে অভিবাসীরা আর যুক্তরাজ্যে আসবেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত