মধ্যপ্রদেশে খোলা জায়গায় বিক্রি করা যাবে না আমিষ

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:০০ এএম

মধ্যপ্রদেশে খোলা জায়গায় মাছ, মাংস আর ডিম বিক্রি করা যাবে না। নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভায়ই এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে এরই মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন বিজেপি নেতা মোহন যাদব। তার সরকারই এই ঘোষণা দিয়েছে, যা এরই মধ্যে শোরগোল ফেলে দিয়েছে এবং আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

সমালোচক ও বিরোধী রাজনীতিকরা বলছেন, মোহন যাদব হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) একজন নেতা। আরএসএসের আদর্শিক প্রভাবে গড়ে ওঠা বিজেপির হয়ে রাজনীতির ময়দানে এসে তিনি হিন্দুত্বের দর্শনই বাস্তবায়ন করছেন। সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি সংখ্যালঘু মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে প্রকাশ্যে মাছ, মাংস ও ডিম বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। মুসলিমদের আমিষ খেতে কোনো ধর্মীয় বাধা না থাকলেও হিন্দুত্বের দর্শনে নিরামিষভোজী হওয়ার উপদেশ দেওয়া হয়, যা রাজ্যজুড়েই চাপিয়ে দিতে চাইছেন মোহন যাদব।

মোহন যাদব খোলাবাজারে মাছ-মাংস-ডিম বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করার ঘোষণা দিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি, বরং তার সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরতে যুক্তি হিসেবে হাজির করেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনাকে। তিনি এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে বলেছেন, ‘ভারত সরকার খাদ্য নিরাপত্তা বিধি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে খোলাবাজারে মাছ, মাংস বিক্রির ওপর নিয়ন্ত্রণ জারি করার কথা বলেছে।

এবার আমরা তা কঠোরভাবে মেনে চলব।’ মধ্যপ্রদেশের পর রাজস্থানেও বিজেপি বিধানসভা ভোটে জয়লাভ করেছে। সেখানেও দলটির এক নবনির্বাচিত বিধায়ক মাংসের দোকান এবং কসাইখানা বন্ধ করতে রাস্তায় নেমেছিলেন।

মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিত্ব বিজেপি নেতা শিবরাজ সিংহ চৌহান। কিন্তু তাকে মুখ্যমন্ত্রী না বানিয়ে একদম নবীন মুখ মোহনকে বেছে নেয় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। শপথগ্রহণের পরই নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে চমকে দেওয়ার পাশাপাশি সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে তার সরকার। মোহনের সরকার জানিয়েছে, এখন থেকে মধ্যপ্রদেশে কোনো ধর্মীয় স্থানে মাইক এবং লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে না।

আমিষ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মোহন বলেন, ‘রাজ্যের খাদ্য দপ্তর, পুলিশ, পৌরসভাগুলো এই বিধিনিষেধ প্রতিপালনের কাজ তদারকি করবে। প্রকাশে মাছ-মাংস বিক্রি বন্ধ করার জন্য আগামী ১৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশেষ প্রচার কর্মসূচি চালানো হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত