বিশ্বকাপজয়ীরা এখন যেমন আছেন

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৫০ এএম

বিশ্বকাপ মানে নতুন তারকার জন্ম। বিশ্বকাপ মানে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যদের নতুন করে উত্থান ক্লাব ফুটবল অঙ্গনে। কাতার বিশ্বকাপ হয়েছিল মৌসুমের মাঝপথে। তবু তার প্রভাব পড়েছিল দলবদলে। দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইনরা এখন কে কোন ক্লাবে

লিওনেল মেসি

কাতার বিশ্বকাপে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। ৭ গোল করে হন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেরা গোলস্কোরার। জেতেন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল। বিশ্বকাপ জয়ের সময় মেসি ছিলেন পিএসজিতে। ২০২৩’র জুনে প্যারিসের ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি শেষ হয় তার। নতুন চুক্তি না করে পাড়ি দেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে। যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল মৌসুমের মাঝপথে ইন্টার মায়ামিতে যোগদান করে দলকে তাদের ইতিহাসে প্রথম শিরোপা জিতিয়েছেন লিগস কাপ জেতার মাধ্যমে।

আনহেল ডি মারিয়া

ফাইনালে একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করা এই উইঙ্গার বিশ্বকাপের সময় ছিলেন জুভেন্তাসে। চুক্তি শেষে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে যোগ দেন তার পুরনো ক্লাব পর্তুগালের বেনফিকাতে। কয়েকদিন আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে সাল্জবুর্গের বিপক্ষে অলিম্পিক গোল (কর্নার থেকে সরাসরি) করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন।

জুলিয়ান আলভারেজ

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে করা নাম্বার নাইনের প্রথম গোলটি ভক্তরা মনে রাখবে বহুদিন। টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচে ৪ গোল করেছেন। ২০২২’র জুলাইয়ে রিভার প্লেট থেকে যোগ দেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। বিশ্বকাপ জয়ের মৌসুমে (২০২২-২৩) সিটির হয়ে ট্রেবল জিতেছেন। চলতি মৌসুমে ২৪ ম্যাচে আটটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন আলভারেজ।

লাউতারো মার্তিনেজ

বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ২৩৮ মিনিট মাঠে থাকা স্ট্রাইকার গোল করতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরেই খেলছেন ইন্তার মিলানে। চলতি মৌসুমে ২১ ম্যাচে ১৬ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট তার।

পাওলো দিবালা

এই উইঙ্গার কাতারে তিন ম্যাচে ৩৭ মিনিট খেলেন। তবে ক্লাব পর্যায়ে নিয়মিত পারফরম্যান্স করছেন দিবালা।  চলতি মৌসুমে রোমাতে ৯৪১ মিনিট মাঠে থেকে চার গোল, ৬টি অ্যাসিস্ট করেছেন।

রদ্রিগো ডি পল

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে মিডফিল্ডে অন্যতম কা-ারি ছিলেন ডি পল। ২০২১ সাল থেকে তিনি খেলছেন স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদে। ক্লাবটির সঙ্গে ২০২৬ এর জুন পর্যন্ত চুক্তি আছে তার। এই মৌসুমে আতলেতিকোর হয়ে ১০৬৯ মিনিট খেলেছেন ডি পল।

আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার

বিশ্বকাপে দলের হয়ে খেলেন ৬ ম্যাচ। এই মিডফিল্ডার ব্রাইটন ছেড়ে ৪২ মিলিয়ন ইউরোতে যোগ দিয়েছেন লিভারপুলে। প্রিমিয়ার লিগে এখনো নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। 

এনজো ফার্নান্দেজ

ফিফার এক বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে, এই খেলোয়াড়টিকে কেন্দ্র করেই বিশ্বকাপে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ সাজিয়েছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় গেল জানুয়ারিতে দলবদলে রেকর্ড ১০৭ মিলিয়ন পাউন্ডে চেলসিতে যোগ দেন। এখন পর্যন্ত ৪১ ম্যাচে তার গোল ও অ্যাসিস্ট তিনটি করে।

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজের। খেলেছেন সব ম্যাচই। কোয়ার্টার ফাইনাল টাইব্রেকারে দুটি ও ফাইনালের টাইব্রেকারে একটি সেভ দেন এমি। ফাইনালে ১২০ মিনিটের পর যোগ করা সময়ে কোলো মুয়ানির শট ঠেকান তিনি। যেটি বিশ্বকাপের আইকনিক ছবি হয়ে আছে। বিশ্বকাপের সেরা এবং ফিফার বর্ষসেরা গোলকিপার খেলছেন অ্যাস্টন ভিলায়।

পাপু গোমেজ

কাতার বিশ্বকাপে মাত্র দুটি ম্যাচে খেলেন। বিশ্বকাপের সময় তিনি ছিলেন সেভিয়াতে। তবে বর্তমানে পাপু খেলছেন ইতালিয়ান ক্লাব মোনজাতে।

থিয়াগো আলমাদা

অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা উইঙ্গার দুই পজিশনেই খেলতে পারেন। কাতার বিশ্বকাপে মাত্র ৬ মিনিট মাঠে থেকেই চ্যাম্পিয়নের মেডেল পান। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব আটলান্টা ইউনাইটেডে গেল মৌসুমে ১৩ গোল ও ১৬ অ্যাসিস্ট করেন।

এজেকুয়েল পালাসিওস

ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে খেলেছেন মোটে ৪৭ মিনিট। ২০২০ থেকে জার্মান ক্লাব বায়ার লেভারকুসেনে খেলছেন তিনি। এই মৌসুমে ১৯ ম্যাচে চার গোল, দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন।

নিকোলাস ওতামেন্দি

৩৫ বছর বয়সী ডিফেন্ডার আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন ১০৯ ম্যাচ। কাতার বিশ্বকাপে খেলেন সব ম্যাচই। ২০২০ থেকে বেনফিকায় খেলছেন। চলতি মৌসুমে খেলেছেন ২২ ম্যাচ।

মার্কোস আকুনা

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে ছয়টি ম্যাচ খেলেন ডিফেন্ডার। যার চারটি খেলেন লেফট ব্যাক হিসেবে। সৌদির সঙ্গে হারের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে খেলেন ১৯ মিনিট। তবে এরপর মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলেন পুরো ৯০ মিনিট। ২০২০ সাল থেকে স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়াতে। জিতেছেন ইউরোপা লিগ শিরোপা। 

ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো

বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে মোট ৫৪৮ মিনিট মাঠে ছিলেন। ফাইনালে ১২০ মিনিটই খেলেন তিনি। বিশ্বকাপের সময় ধারে ছিলেন টটেনহ্যামে। গেল মৌসুমে তিনি পাকাপাকিভাবে চুক্তি করেন ইংলিশ ক্লাবটির সঙ্গে। এই মৌসুমে ১৪ ম্যাচে করেছেন তিন গোল।

লিসান্দ্রো মার্তিনেজ

বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচ খেলেন এই ডিফেন্ডার। ২০২২-২৩ মৌসুমের শুরু থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলছেন।

নাহুয়েল মোলিনা

বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে ৫৬৮ মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি। ২০২২ এর জুলাইতে পাঁচ বছরের চুক্তিতে আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দেন মোলিনা। এই মৌসুমে Í ১৯ ম্যাচে দুই গোল ও তিন অ্যাসিস্ট তার।

হুয়ান ফয়েথ

২০২১ থেকে ভিয়ারিয়ালে খেলছেন ডিফেন্ডার ফয়েথ। চুক্তি আছে ২০২৬ এর জুন পর্যন্ত। চলতি মৌসুমে ক্লাবের হয়ে খেলেছেন ১৬ ম্যাচ। বিশ্বকাপে চার মিনিট খেলেন।

নিকোলাস তাগলিয়াফিকো

বিশ্বকাপে খেলেন ছয় ম্যাচে। ফাইনালে ১২০ মিনিট খেলেন। লেফট ব্যাক কাতার বিশ্বকাপের সময় থেকে আছেন ফ্রেঞ্চ ক্লাব লিওতে। ১৩ ম্যাচ খেলেছেন চলতি মৌসুমে।

গঞ্জালো মন্তিয়েল

বিশ্বকাপে চার ম্যাচে খেলেন ১১৮ মিনিট। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে উইনিং শটটি নেন মন্তিয়েল। কাতার বিশ্বকাপের সময় রাইট ব্যাক ছিলেন সেভিয়াতে। চলতি মৌসুমে ধারে খেলতে এসেছেন নটিংহ্যাম ফরেস্টে।

জার্মান পাজেলা

পাজেলা আর্জেন্টিনার হয়ে কাতার বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে খেলেন মোট ৫৭ মিনিট। ৩২ বছর বয়সী এই সেন্টার ব্যাক নিয়মিতই খেলছেন বেতিসের হয়ে।

লিয়ান্দ্রো পারাদেস

ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাতার বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে খেলেন ২২৪ মিনিট। অ্যাসিস্ট করেন একটি। বিশ্বকাপের সময় ধারে খেলছিলেন ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্তাসে। এই মৌসুমে তিনি যোগ দেন রোমাতে।

অ্যানহেল কোরেয়া

 সেমিতে মাত্র চার মিনিট খেলার সুযোগ পান। ২০১৫ থেকে খেলছেন আতলেতিকো মাদ্রিদে। চলতি মৌসুমে ১৯ ম্যাচে চার গোল করেন ২০২৬’র জুন পর্যন্ত ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি তার।

গুইদো রদ্রিগেজ

কাতার বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে ৫৭ মিনিট মাঠে ছিলেন এই মিডফিল্ডার। ২০২০ এর জুন থেকে রিয়াল বেতিসে খেলছেন। চলতি মৌসুমে খেলেছেন ১৯ ম্যাচ।

ফ্রাঙ্কো আরমানি

২০১৮ সাল থেকে রিভার প্লেটে খেলছেন আরমানি। কাতারে মাঠে না নামলেও রিভার প্লেটে নিয়মিত মুখ ৩৭ বছরের এই গোলকিপার।

জেরেনিমো রুলি

২০২২ বিশ্বকাপের সময় রুলি খেলতেন স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালে। এই মৌসুমে আয়াক্সে যোগ দিয়েছেন। কাতার বিশ্বকাপে মাঠে নামেননি। এই মৌসুমে কাঁধের ইনজুরিতে মাত্র এক ম্যাচ খেলেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত