দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে তিন প্রার্থী রিট আবেদন করেছেন। তারা হলেন বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহম্মেদ, বরিশাল-৫ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামীম হক। দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে এ তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন।
গতকাল রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তারা রিট আবেদন দাখিল করেছেন। রিটে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত, বাছাই চলে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গতকাল রবিবার (১৭ ডিসেম্বর)। আর ১৮ ডিসেম্বর (আজ) প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটের প্রচার চালানোর সুযোগ থাকবে।
সাদিক আবদুল্লাহর আইনজীবী খুরশীদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা তার প্রার্থিতা বাতিলের বৈধতা নিয়ে রিট আবেদন করেছি। এটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আগামীকাল (সোমবার) শুনানির জন্য মামলাটি কার্যতালিকার শুরুর দিকে থাকবে।’ শাম্মী ও শামীমের আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হকও একই কথা জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদনের শুনানিতে তাদের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে ইসি।
এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ড. শাম্মী আহম্মেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম এ দুই প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করেন। পরদিন দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহম্মেদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
৬ ডিসেম্বর বরিশাল-৫ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুকের এক সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেন। তার বিরুদ্ধে ভুল তথ্য পেশ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। সে অভিযোগে শুক্রবার ইসি তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে।
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী দলের জেলা শাখার সভাপতি শামীম হক। নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন হা-মীম গ্রুপের কর্ণধার ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এ. কে. আজাদ। তারা দুজন একে অন্যের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেছিলেন। শামীম হকের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের (নেদারল্যান্ডস) অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে এ. কে. আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। যাচাই-বাছাইয়ে শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল করা হলেও আজাদের প্রার্থিতা বহাল রেখেছে ইসি।
